দিদি লতার পথেই হেঁটেছিলেন বোন আশা, শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান প্রত্যাখ্যানের সেই অনন্য কাহিনি
১৯৭৯ সালে এক অভাবনীয় ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন
Truth Of Bengal: সঙ্গীত জগতের ধ্রুবতারা আশা ভোঁসলে কেবল তাঁর কণ্ঠের জাদুকরী বৈচিত্র্য নয়, বরং তাঁর উদার মানসিকতার জন্যও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি মোট সাতবার ফিল্মফেয়ারের শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়িকার পুরস্কার জিতেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৯ সালে এক অভাবনীয় ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন এই সুরসম্রাজ্ঞী।
সেই বছর পুরস্কার গ্রহণের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, দিদি লতা মঙ্গেশকরের মতোই তিনিও আর ভবিষ্যতে কোনও ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হতে চান না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্র জগতে নবাগত এবং তরুণ প্রতিভাদের জন্য পথ প্রশস্ত করে দেওয়া। লতা মঙ্গেশকরও এর আগে ঠিক একই কারণে নিজেকে পুরস্কারের লড়াই থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।
আশা ভোঁসলে মনে করেছিলেন, তাঁদের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা যদি বছর বছর শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান পেতে থাকেন, তবে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন এবং প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হবেন। শিল্পীর এই নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্ত ভারতীয় সঙ্গীত মহলে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে সম্মান জানাতে ফিল্মফেয়ারের পক্ষ থেকে ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ এবং বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল, কিন্তু মূল প্রতিযোগিতার দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সেই ঘটনা আজও তাঁর ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।



