‘মৌন’ থাকলেও কর্মে ‘মুখর’ ছিলেন মনমোহন
Manmohan was 'silent' but 'outspoken' in his actions
Truth Of Bengal: মৃদুভাষী মনমোহন সিং ছিলেন নির্বিবাদী। তাঁর মৃত্যুতে মুছে গিয়েছে রাজনৈতিক ভেদাভেদ। গোটা দেশের একবাক্যে সবার স্বীকারোক্তি, ভারতের অর্থনীতিকে বদলে দিয়েছিলেন ডঃ মনমোহন সিং। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছে গোটা দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। প্রধানমন্ত্রী থেকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সকলেই।
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। মনমোহনের ব্যক্তিগত সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে কোনও দিন প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায়নি বিরোধীরা। কিন্তু তাঁরই জমানায় টু-জি স্পেকট্রাম, কমনওয়েলথ গেমস, কয়লা, কপ্টার, আস্থা-ঘুস, আদর্শ আবাসন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। আর সেই অভিযোগকে হাতিয়ার করে দানা বাঁধে লোকপালের দাবিতে আন্দোলন। আন্না হাজারেদের সেই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলনকে সিঁড়ি করে ‘আম আদমি পার্টি’-র মতো দলের উত্থান। পরবর্তী কালে টু-জি বণ্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগকে খারিজ করেছে আদালত। কিন্তু তত দিনে রাজনৈতিক ভাবে বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে কংগ্রেসের।
এত কিছু হলেও ব্যক্তি মনমোহনের সততা নিয়ে কেউ কোনদিন কোনও প্রশ্ন তোলার অবকাশ পায়নি। ২০১৪ সালে তাঁর দল কংগ্রেস হেরে গেলেও রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন তিনি। শেষে চলতি বছর সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হতেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি। তবে শেষদিন পর্যন্ত হাত ছাড়েননি তিনি। সাংসদ হিসাবে শেষ ভাষণে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নোট বাতিলের নিন্দা করেছিলেন। প্রাজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ওই পদক্ষেপকে ‘সংগঠিত লুট এবং বৈধ লুণ্ঠন’ বলে তোপ দেগেছিলেন।
পূর্বসূরি সম্পর্কে অবশ্য সৌজন্য দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনমোহনের কাজের একাগ্রতা, নিষ্ঠার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকারের বহু অনৈতিক কাজে রুখে দাঁড়াতে না পারায় বারে বারে সমালোচিত হন মনমোহন সিং। তবে কোনওদিন তাঁকে কোনও সমালোচনার জবাব দিতে দেখা যায়নি। চুপ থেকে জবাব দিতেন তিনি। কম কথা বলা এই মানুষটিকে দেশ তাঁকে মনে রাখবে উদার অর্থনীতির জনক হিসাবে। দেশের অর্থনীতিতে তাঁর অবদানের কথা ভোলার নয়। কম কথা বলে ‘মৌন’ থাকলেও তাঁর কাজ চিরকার ‘মুখর’ হয়ে থাকবে।






