Bengali Rights: বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য সবাইকে এক হতে হবে
কেন্দ্রের কোনও বাজেটে বাংলার জন্য তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ থাকে না বললেই চলে।
শ্যামল কান্তি ধর: ‘মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা’ অতুলপ্রসাদ সেনের এই লেখা এই গান আজ সত্যিই আক্রান্ত। বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ আমার মতো অনেকেই আতঙ্কিত। কারণ এতদিন রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় স্তর থেকে বাংলার সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার নানা প্রকল্পে নানা অছিলায় অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলার বহু হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা পড়ে আছে। পাওনা টাকা দেওয়ার নামগন্ধ নেই। উল্টে বাংলা থেকে কোটি কোটি টাকার ট্যাক্স রেভিনিউ নিয়ে চলে যাচ্ছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের কোনও বাজেটে বাংলার জন্য তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ থাকে না বললেই চলে। এই ক’দিন আগে রিপোর্ট থেকে জানা গেল, ২০২৫-২৬ বাজেটে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার চতুর্থ পর্যায় (পিএমজিএসওয়াই) অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম সড়ক যোজনা ৪ চালুর প্রস্তাব পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। স্বাভাবিক ভাবেই সব রাজ্যের সঙ্গে বাংলাও দাবি জানিয়ে রেখেছিল বরাদ্দের জন্য। কিন্তু কেন্দ্রের একটি চিঠি মারফত জানা গেল, এবারও আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা হবে। তবে এবার বাংলা সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি পাচ্ছে না। পাচ্ছে শুধু ডাবল ইঞ্জিন সরকার ও তাদের জোট শরিকরা। এই পক্ষপাতিত্ব আর কতদিন চলবে (Bengali Rights)?
আরও পড়ুন: Rain Alert: ২৪ জুলাই থেকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা
ভারতবর্ষের সংসদীয় ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠমোয় যা আইনসম্মত ব্যবস্থা আছে তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যা খুশি করতে পারে না। দলগত ব্যাপার যখন আসবে তখন ব্যাপারটি আলাদা। সে ক্ষেত্রে অন্যথার অবকাশ আছে। কিন্তু বারে বারে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার তা গুলিয়ে ফেলছে। রাজনীতি আর সরকারি ব্যবস্থা এক নয়। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের চোখে ভারতের গণতন্ত্র, মানবিক দৃষ্টিকোণ, সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধা জাগছে। সে বিষয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও হেলদোল নেই। তারা শুধু মেতে আছে সাম্প্রদায়িকতা, জাতপাতের বিভাজন ও হিন্দুত্বের জিগিরসহ নানা ধরনের রাজনীতি নিয়ে। এখন রাজনীতি আর সরকারের কোনও পার্থক্য নেই বললেই চলে। একদিকে আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, রেকর্ড সংখ্যক বেকারত্ব, প্রতিটি বিরোধী রাজ্যগুলির নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যহরণ বিশেষ করে বাংলাকে ষড়যন্ত্রের পাখির চোখ করা হয়েছে। বাংলা ভাষাকে ভারতবর্ষ থেকে মুছে দেওয়ার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলার হাজার হাজার বেকার যুবক যাদের পরিযায়ী শ্রমিক বলা হচ্ছে, তারা ভিন রাজ্যে গিয়ে দুটো পয়সা রোজগার করছিলেন সেখানেও চলছে কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র। নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বলা যাবে না। সেটা কানে আসলেই তাকে অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। এই দেশের বৈধ নাগরিক। তার সমস্ত বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র-সহ সকল প্রকারের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এটা একটা পরিকল্পিত অত্যাচার। এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন, তা হলে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে কাজ করতে যাওয়াটা কি অপরাধ? না বাংলা ভাষায় কথা বলাটা? কোনটা? স্পষ্ট করুক কেন্দ্রীয় সরকার। আমরা জানি, বাংলা ভাষার বিরোধিতা শুরু হয়েছিল সেই নেতাজি সুভাষের আমল থেকে। তা এখনও চলছে সমান তালে। কারণ বাংলাই স্বাধীনতার ভিত্তিভূমি। এটাই কি অপরাধ (Bengali Rights)?
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1ADtx3ZZeU/
আচ্ছা ধরুন, বাংলা ভাষায় কথা বললে যদি বাংলাদেশি হয়, তবে হিন্দি ভাষায় কথা বললে কী হবে? কারণ হিন্দি ভাষাটার অধিকাংশই উর্দু শব্দের সংমিশ্রণ। আর সেই উর্দু ভাষা তো পাকিস্তানের ভাষা। যাই হোক, বাংলায় কি হিন্দি ভাষাভাষী সহ বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ নেই? তারা তো খুব সুন্দর ভাবে বাঙালির সঙ্গে মিলেমিশে একাত্ম হয়ে শান্তিতে এখানে বসবাস করছে। কারও কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ভাবে। প্ল্যান ওয়ান সফল হয়নি। এবার কি তবে প্ল্যান বি? বাংলায় বাঙালিরা ভিন রাজ্যের ভিন ভাষাভাষীর সঙ্গে লড়াই বাঁধাক তা হলে মনের জ্বালা অন্তত কিছুটা জুড়াবে, আমরা দূরে বসে মজা দেখবো? সে গুড়ে বালি। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন বেঁচে আছেন সেটা কোনওমতেই সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তিনি সদা জাগ্রত। ইতিমধ্যে তিনি ময়দানে নেমে পড়েছেন। তাই দল, মত, নির্বিশেষে সকলের উচিত তাঁর পাশে এসে দাঁড়ানো (Bengali Rights)।






