সম্পাদকীয়

বঙ্গে বাংলা প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ রোগী সুবিধার্থে আদৌ সম্ভব, শুরু চর্চা

Bengali prescription and consultation in Bengali is possible for patient convenience, practice has begun

Truth Of Bengal: দেবরাজ হালদার, কলকাতা: যেকোনো অসুখ-বিসুখে খসখস করে প্রেসক্রিপশন লিখতে দেখা যায় চিকিৎসকদের। বেসরকারি হোক, কিংবা সরকারি হাসপাতাল সমস্ত জায়গায় প্রেসক্রিপশনে দুর্বোধ্য হাতের লেখায় নাজেহাল হন রোগীর পরিবার। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ রোগীদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে। এক্ষেত্রে ডাক্তার এবং রোগীর সম্পর্ক অনেকটাই নির্ভর করে ভাষা বিনিময়ের ওপর।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ডাক্তারদের দুর্বোধ্য ইংরেজি হাতের লেখা কোনমতেই বুঝতে পারেন না রোগীর পরিবার। যার ফলে নির্ভর করতে হয় ওষুধের দোকানগুলোর উপর। একথা ডাক্তারদের একাংশ অকপটে স্বীকারও করেন। মেডিক্যাল কাউন্সেলিং অফ ইন্ডিয়া আগেই দেশ জুড়ে সরকারি বেসরকারি সব ধরনের চিকিৎসকদেরই বাধ্যতামূলকভাবে ওষুধের জেনেটিক নাম লেখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে একথাও শোনা যেত ডাক্তারদের হাতের লেখা অনেক সময় ফার্মাসিস্টদেরও বুঝতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাহলে সাধারণ মানুষ বুঝবে কিভাবে। তবে বর্তমানে প্রেসক্রিপশনে ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে লেখা শুরু হয়েছে বেশ কিছু হাসপাতালে।

তাতে কিছুটা হলেও ওষুধ বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হয় ওষুধের দোকানগুলির। তবে অল্প সময়ের মধ্যে রোগ চিহ্নিত করে রোগীকে ওষুধ বুঝিয়ে দিতে ডাক্তার সক্ষম হলেও রোগীদের সাময়িক সময়ের জন্য মনে থাকলেও পরবর্তী সময়ে আবারও ভুলে যান। যার ফলে নির্ভর করতে হয় ওষুধ বিক্রেতাদের ওপরে।

বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. বিপ্রেস চক্রবর্তী তিনিও রোগীদের এই সমস্যার কথা অকপটে স্বীকার করেন। সে ক্ষেত্রে রোগীদের কখন কোন ওষুধ খেতে হবে তা যদি বাংলায় উল্লেখ করা থাকে সে ক্ষেত্রে রোগীদের অনেক ঝুঁকি কমে। কারণ বুঝতে না পেরে অনেক সময় ভুল ওষুধ খেয়ে ফেলাতে রোগীর আরও অসুস্থ হয়ে ওঠা বা প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়।

তাই এই রাজ্যে যদি ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনে বাংলা ভাষায় ওষুধের নামটি ইংরেজিতে লেখা ছাড়া বাকি পরামর্শ অর্থাৎ রোগীর রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাংলা ভাষায় লেখা সম্ভব হয়, তাহলে রোগীরা তাদের রোগ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারেন। পাশাপাশি নিজেই প্রেসক্রিপশন পড়ে কখন কোন ওষুধ খেতে হবে সেই সম্পর্কে সঠিক তথ্য তারা জানতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি কমবে বলে মনে করেন রোগী ও তার আত্মীয়রা।

কলকাতার এন আর এস হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার বাসিন্দা রহমত আলি মোল্লা। তিনি বলেন, রোগীর জন্য বাংলায় ওষুধের প্রেসক্রিপশন লেখা উচিত। এতে ওষুধের নাম, দিনে কখন-কতবার খেতে হবে, সেই তথ্য বাংলায় লেখা থাকলে সুবিধা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাতেও ভাষা দিবসে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। আর এই অনুষ্ঠানের দিনে জোরালো দাবি উঠল বিভিন্ন হাসপাতাল, নার্সিংহোম সহ চিকিৎসা ক্ষেত্রগুলিতে যে, বাংলায় প্রেসক্রিপশন চালু হোক।

বাংলার সাধারণ মানুষের কথা ভেবে চিকিৎসকরা বাংলা ভাষা আরও বেশি করে ব্যবহার করুন। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মতে, একজন রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে আসেন শুধু অসুখ নিয়ে নয়, মানসিক যন্ত্রণা নিয়েও। সেক্ষেত্রে ওই রোগীর কী করনীয় তা যদি প্রেসক্রিপশনে বাংলায় লেখা পান তাহলে অনেক কিছুই বুঝতে তার কাছে সহজ হয়ে যায়। মানসিকভাবেও যন্ত্রণা কম হয়। তাই বিভিন্ন মহল থেকে এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। বঙ্গভাষীর অপেক্ষায় আগামীতে তারা নিজের মাতৃভাষাতেই পাবেন ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য পরামর্শ।

Related Articles