ব্যবসা

ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়-ভারতীয় জাদুঘরের অংশীদারিত্ব

গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এর সূচনা হলো।

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: একাডেমিয়া ও ঐতিহ্য একসঙ্গে ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্মাণ করে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এর সূচনা হলো। আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতা স্মারকটি ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘নমামি ভারতম: বহু রূপ, এক সত্য’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়- যিনি একজন স্বশিক্ষিত ডিজিটাল শিল্পী, বহুমুখী আলোকচিত্রী, সাপ্তাহিক সংগীতচর্চাকারী , প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা- এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অরিজিৎ বকশী, অধ্যাপক স্বপন কুমার প্রামাণিক, ভাইস-চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, ভারতীয় জাদুঘর; ড. শতরূপা, সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, অলোক কুমার ঘোষ, সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ,ড. সায়ন ভট্টাচার্য, পরিচালক, ভারতীয় জাদুঘর, কলকাতা, সন্দীপ সিং রাজপুত প্রমূখ।

এই পাঁচ বছরের সহযোগিতা ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতীয় জাদুঘরের মধ্যে এক যুগান্তকারী অংশীদারিত্বের সূচনা করেছে, যার লক্ষ্য ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জ্ঞানব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, শিক্ষাগত উৎকর্ষ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং জনসম্পৃক্ততাকে আরও শক্তিশালী করা। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে অ্যাকাডেমি অব ভারতীয় হেরিটেজ, ইন্টারপ্রিটেশন, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট (অভিরা)। এটি হবে একটি বহুবিষয়ক উৎকর্ষকেন্দ্র, যা ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রাচীন জ্ঞানব্যবস্থার উন্নত গবেষণা, নথিভুক্তকরণ এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে নিবেদিত থাকবে। এটি ভারতীয় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক অগ্রণী উদ্যোগ, যা একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করছে।

এই উপলক্ষে ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক একটি অভিনব প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্যাক টু দ্য পাস্ট ‘ উন্মোচন করে। এই প্রামাণ্যচিত্রটি বিস্তৃত আর্কাইভ গবেষণা এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ইতিহাসকে এক অনন্য ডিজিটাল অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করেছে। এই উপস্থাপনা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিশিষ্ট অতিথিদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পায়। ভারতীয় জাদুঘরের পরিচালক ড. সায়ন ভট্টাচার্য এই উদ্যোগকে ‘ইতিহাস ও জাদুঘরের জগতে এক নবজাগরণ’ বলে অভিহিত করেন। ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি দলকে তাদের পথপ্রদর্শক অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রত্নতত্ত্ব, মিউজিওলজি, সংরক্ষণবিদ্যা এবং ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থায় যৌথ গবেষণা, সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, ডিগ্রি কোর্সের উন্নয়ন; ভারতীয় জাদুঘরে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ,ডিজিটাল আর্কাইভ ও ভার্চুয়াল মিউজিয়াম অভিজ্ঞতা নির্মাণ, প্রদর্শনী, বক্তৃতা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক জনসংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হল ‘লিভিং মিউজিয়াম ইউনিভার্সিটি’ ধারণা, যার মাধ্যমে জাদুঘরকে শিক্ষাদান, শিক্ষাগ্রহণ, গবেষণা ও অনুপ্রেরণার জীবন্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগটি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ -এর লক্ষ্য ও দর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল শিশুদের কাছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তোলা। ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনী, এ আই -ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, ভার্চুয়াল মিউজিয়াম অভিজ্ঞতা এবং গল্পভিত্তিক শিক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীরা ভারতের সমৃদ্ধ অতীতকে সৃজনশীল ও উপভোগ্য উপায়ে আবিষ্কার করতে পারবে। এর ফলে তাদের মধ্যে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি হবে।

বৃহৎ পরিসরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতীয় জাদুঘর সি এস আর উদ্যোগ এবং গবেষণা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগও অনুসন্ধান করবে। পাশাপাশি ভারতীয় জাদুঘরের বিশেষজ্ঞরা প্রফেসর অব প্র্যাকটিস, অতিথি অধ্যাপক এবং একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকবেন।
ওই অনুষ্ঠানে ভারতীয় জাদুঘরের পরিচালক ড. সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, এই অংশীদারিত্ব ভারতের ঐতিহ্যকে আধুনিক গবেষণা ও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করবে।

ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় বলেন,আমরা একসঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলছি। ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যা ভারতীয় জাদুঘরের সঙ্গে এই ধরনের উদ্ভাবনী সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এর ফলে মিউজিওলজি, ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হবে। এই ঐতিহাসিক সহযোগিতা জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে ব্রেইনওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ এবং জাতি গঠনের প্রতি অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করে।