দুর্নীতির তদন্তভারের হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টে সন্দীপ
Sandeep challenged the High Court verdict of the Corruption Investigation Board in the Supreme Court

Truth Of Bengal : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনে (সিবিআই) স্থানান্তর করার কলকাতা হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
২৩ শে আগস্ট, কলকাতা হাইকোর্ট আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক অনিয়মের তদন্ত একটি রাজ্য-গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) থেকে CBI-তে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
লাগাতার জেরার পর গ্রেফতার করা হয় সন্দীপ ঘোষকে। ১৬দিনের মাথায় সোমবার গ্রেফতার করে সিবিআই। জেরায় একাধিক অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তরফে জানা গেছে। উল্লেখ্য, সোমবার সারাদিন জেরার পর তাঁকে সিজিও থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নিজাম প্যালেসে। নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। নিজাম প্যালেসে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়,ছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা। সোমবার সন্ধ্যায় সিবিআই কর্তারা তাঁকে গাড়ির মাঝখানে বসিয়ে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যায়।
ঘোষ ফেব্রুয়ারী ২০২১ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি সেই বছরের অক্টোবরে আরজি কর থেকে বদলি হয়েছিলেন কিন্তু এক মাসের মধ্যে অব্যক্তভাবে সেই পদে ফিরে আসেন। হাসপাতালের চিকিৎসক মৃত পাওয়া পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে অবস্থান নেন।
৯অগাস্ট আরজি করের তরুণী চিকিত্সককে খুনও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।সেই ঘটনায় সিবিআই ১৩অগাস্ট চিকিত্সক নির্যাতনকাণ্ডের তদন্ত ভার নেয়। তারপর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে সন্দীপ ঘোষকে।১৬অগাস্ট থেকে ৩০অগাস্ট টানা ১৫দিন তাঁকে জেরা করা হয়।এর মাঝেই আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। মূলতঃ প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আক্তার আলির অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তে নামে।
সেই ঘটনায় একদিন তিনি যেতে পারেননি। সেদিন তাঁর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআইয়ের স্পেশাল টিম। তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁর বেলেঘাটার বাড়িতেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সন্দীপ ঘোষকে। এরপর শনি –রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তাঁকে তলব করেনি।তবে সোমবার ফের সন্দীপ ঘোষকে ডেকে পাঠায় তদন্তকারী আধিকারিকরা।সেইমতো সিজিওতে হাজিরা দেন হাসপাতালের একসময়ের মাথা। সিবিআইয়ের তরফে জানা গেছে,সন্দীপ ঘোষের পলিগ্রাফ টেস্টে বেশকিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে।যার সঙ্গে আগের বয়ানের সঙ্গতি নেই। তাই আসল সত্যি জানতেই সন্দীপ ঘোষকে সোমবার ম্যারাথন জেরার মুখে বসানো হয়।
উল্লেখ্য, চিকিত্সক খুনের পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতসকাচের নীচে রয়েছেন সন্দীপ ঘোষ।এরমধ্যে আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করেছেন।সেই অভিযোগের তালিকায় রয়েছে,মর্গ থেকে দেহ লোপাট ও মেডিক্যালের বর্জ্য বেচাকেনার মতো গুরুতর অভিযোগ।তদন্তকারীরা মর্গের মতোই সন্দেহজনক নানা জায়গায় হানাও দিয়েছে।সেইসব তথ্য এখন সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে।এর মাঝে সন্দীপ ঘোষ,জানিয়েছেন,তিনি সিবিআইকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে চান।সেইমতো সিবিআই ডাকলেই তিনি সিজিওতে হাজিরা দেন । তথ্যও নথি দিয়ে সহযোগিতা করছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। এরমধ্যে সুপ্রিমকোর্টে এই আরজি করের তরুণী চিকিত্সকের খুনও নির্যাতনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা চলছে।৫সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে সিবিআইকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। তাই তার আগে সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হওয়ায় বড় ঘটনা ঘটল। সিবিআই ব্রেক থ্রু পাওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি হল বলে অনেকের অভিমত।






