সূর্য ওঠার আগেই শকুন্তলা রক্ষা কালী মায়ের বিসর্জন হয়,পুজোয় বিপুল ভক্ত সমাগম
Puja of Shakuntala Kali Maa in Konnagar of Hooghly according to religious tradition

The Truth of Bengal: ধর্মীয় রীতি মেনে হুগলির কোন্নগরে আয়োজন করা হয়েছে শকুন্তলা কালী মায়ের পুজো। দেবী দক্ষিণা কালিকা ভক্তদের মনকাষ্মনা পূরণ করে বলেই বিশ্বাস।সেজন্য এবারও ধুমধাম করে পুজোপাঠের আয়োজন করা হয়। অভিনব পদ্ধতিতে পুজোর রীতি এখনও চলে আসছে।
জাগ্রত দেবী মা শকুন্তলা। সাধারণতঃ বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষে এই পুজো হয়। কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম ঘটে মন্দির চত্বরে। পুজোর দিন রাতভর চলে গঙ্গাস্নান, ও জল ঢালা উৎসব। লোকশ্রুতি আছে, ১৩৪ বছর আগে তৎকালীন সময়ে কোন্নগর জনপথ কানাইপুরের সঙ্গে অবিভক্ত ছিল। ডানকুনির এক কোণে নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এই নগরের নাম ছিল কনের নগর। পরবর্তীকালে নামকরণ হয় কোন্নগর।কথিত আছে,শ্রী চৈতন্যদেব প্রায় ৫৩৪ বছর আগে যখন পানিহাটিতে এসেছিলেন রাঘব পন্ডিতের টোলে তখন তিনি গঙ্গাস্নান করে উল্টো দিকের এই জনপথ নিয়ে নাকি প্রশ্ন করেন কোন নগর,সেই থেকেই এই এলাকার নাম হয়ে ওঠে কোন্ননগর।রীতি অনুযায়ী, সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে কাঁধে করে দেবীকে নিয়ে আসা হয় তার বেদীতে। আবারো সূর্য ওঠার আগেই শকুন্তলা রক্ষা কালী মায়ের বিসর্জন হয়। তারপরে পূজো উপলক্ষে মেলা বসে।
মিলনমেলার প্রাঙ্গণে।” এই মন্দিরে সারা বছর শুধু বেদিতেই পুজো হয়। সর্বশক্তিমান মহামায়াকে একই সঙ্গে সাকার ও নিরাকারে পুজো করার এই রীতি বাংলার আর কোথাও দেখা যায় কি না জানা নেই। এই পুজোর আগের দিন থেকেই অগণিত মানুষের ভিড় করেন বেদিতে জল ঢালার জন্য। গঙ্গায় ডুব দিয়ে জল নিয়ে এসে বেদীতে জল ঢালা চলে সারা রাত জুড়ে। দণ্ডি কেটে চলে মানতপর্ব। এই মন্দির পশুবলির রীতিও রয়েছে প্রথম থেকেই। বলি শেষে শুরু হয় যজ্ঞ আহুতি। এরপর সূর্য ওঠার আগেই মা কে বিসর্জন দেওয়া হয় গঙ্গায়।






