
The Truth of Bengal: পৌষ আগলানো বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ।এই মাসকে আমরা লক্ষ্মীমাস বলি। কারণ নতুন ধান ওঠার জন্য কৃষকরা এই সময় আঙিনা রূপমাধুর্যে ভরিয়ে তুলতে চান। উঠোন নিকিয়ে সেখানে লেখা হয় আউনি-বাউনির ছড়া। শৈল্পিক পরম্পরাকে সম্মান জানিয়ে চালের গুঁড়ি দিয়ে আঁকা হয় আল্পনা। একইসঙ্গে ঘরে ঘরে ধানের শিস দিয়ে বিনুনি বেঁধে তার মাধ্যমে লক্ষ্ণীকে স্বাগত জানানো হয়। এই বাউনি বাঁধার সময় বাজে শাঁখ, ছড়া কাটা হয়,আউনি বাউনি কোখাও না যেও, ৩দিন ঘরে বসে পিঠেপুলি খেও! পৌষপার্বন হবে, আর বাঙালির ঘরে পিঠে হবে না তা কখনও হয়? বাঙালির ঘরে পিঠের বহু নাম। যেমন – আস্কে পিঠে, গোকুল পিঠে, ভাজা পিঠে। সঙ্গে চন্দ্রপুলি, ক্ষীরপুলি, দুধপুলী। আরও কত না নামীদামী পিঠতে বাঙালি রসনা তৃপ্ত করে। এই কর্পোরেট জগতেও পৌষের কালচার ধরে রাখার জন্য নদিয়ার চাকদার বাসিন্দারা ঢেঁকিছাঁটা চালে পিঠে তৈরি করতে এগিয়ে এসেছেন।
শহুরে জীবনছন্দের মাঝেও এই সনাতন রীতি ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা দেখা যাচ্ছে এই বাংলার ভূমিতে। রূপসী বাংলার রূপের বাহারের মতোই এই মরসুমী রীতি মানার চল যেন ভরিয়ে তোলে। তাইতো জীবনানন্দ বলেছিলেন,আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে,,,। চাকদার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষের বাঙালিয়ানার ছন্দেভরা আবেগ আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আধুনিক যুগে মেশিনের চল বেড়েছে। যন্ত্রসভ্যতার উন্নত ধারার মাঝেও এযেন মাটির সংস্কৃতিকে আঁকড়ে থাকার অন্যরকম প্রয়াস।
তাই জেন জেড যখন হাইটেক প্রযুক্তি আর কর্পোরেট কালচারকে রপ্ত করছে তখন এই সেকেলে রীতিকে ধরে রেখে ষোলোআনা বাঙালিয়ানাকে বজায় রাখতে আগ্রহী নদিয়ার চাকদার মলিচাগরের হিন্দু-মুসলিম সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষই।বাংলা ও বাঙালি যে এক,ধর্মীয় আচার ভিন্ন হলেও সত্তায় যে সনাতন শিকড় লুকিয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পৌষ বুড়িকে সরষে ও গাঁদা ফুল দিয়ে সাজিয়ে তৈরি করা হয়। সারা দিন ধরে পুজোর সামগ্রী জোগাড় করে চলে পুজো। তারপর শুদ্ধ বস্ত্র পরে ঘরের মহিলারা সন্ধ্যের পর থেকে পৌষ আগালাতে মেতে ওঠেন। ছড়া কাটা হয়’পৌষমাস লক্ষ্মীমাস যাইও না ছাড়িয়ে, ছেলেপিলেকে ভাত দেব থালা ভরিয়ে।





