কলকাতা

ঋতুচক্র নিয়ে সংস্কার কাটানোর সামাজিক বার্তা দিচ্ছে পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লী

Durga pujo 2023

The Truth of Bengal, Mou basu: ঋতুচক্র নিয়ে আমাদের ভারতীয় সমাজে এখনো নানান সংস্কার রয়েছে। ঋতুমতী নারীদের অনেক ধর্মীয় স্থানে ঢোকার ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ আছে। জীবনের যা স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক চক্র তাই আজ নারীদের কাছে নানান রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। নানান রকম সামাজিক বিধিনিষেধ, সংস্কারের জেরে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠা নারীজীবনের কাছে প্রত্যেক মাসে ঘুরেফিরে আসা ৪টি দিন যেন তিতিবিরক্তি ও অভিশাপের নাম হয়ে ওঠে। সংস্কারবশতই ঋতুমতী নারী ঋতুচক্র চলার সময় পুজো পার্বণের মতো কোনো শুভ কাজে যোগ দিতে পারেন না। ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে ঋতুচক্র নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে ফেলার বার্তা দিচ্ছে উত্তর কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ৮৪তম বছরে উত্তর কলকাতার এই পুজো কমিটির থিম এবার “ঋতুমতী, এসো পূর্ণ করো”। সামগ্রিক পুজো পরিকল্পনায় রয়েছেন থিম শিল্পী মানস রায়। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়ছেন সনাতন পাল। আবহ তৈরি করছেন ক্যাকটাস ব্যান্ডের গায়ক সিধু। ভাষ্যে রয়েছেন দেবদূত ঘোষঠাকুর। আলোর দায়িত্বে রয়েছেন দেবাশিস দাশ ও প্রচ্ছদের সৃজনের দায়িত্বে রয়েছেন দীপকুমার দেব।শিল্পী মানস রায় জানান, ঋতুমতী কথাটি অত্যন্ত অর্থবহ।

কারণ, এই কথাটির মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি নতুন প্রাণের সঞ্চার ও আগমন বার্তা। ঋতুচক্রেই কোনো নারী মাতৃত্বের স্বাদ পান। প্রত্যেক মাসের এই ৪টি দিন আনে নারীত্বের পূর্ণতা। প্রতি মাসেই একবার করে ঘুরেফিরে আসে ঋতুচক্রের ৪টি দিন। নবজীবনের বার্তা আনা ঋতুচক্রই স্ফূর্তি আনে নারী মনে। কিন্তু ঋতুচক্র নিয়ে আমাদের নানান রকম সামাজিক সংস্কার রয়েছে। পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লীতে আমরা ঋতুচক্র নিয়ে সংস্কার কাটানোর সামাজিক বার্তা দিচ্ছি।’
কী সেই সামাজিক বার্তা?
কাব্যিক ছন্দে ঋতুচক্র নিয়ে সংস্কার কাটাতে পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লীর বার্তা-
” টপকে সংস্কারের বেড়া
একবার শুধু রুখে দাঁড়া
এবার হবে “অসুর” নিধন
দশভূজা আছেন পাশে।
হীনমন্যতায় থাকবে কেন
এবারতো মুখ খোলো,
ঘুরে দাঁড়ানোর
সময় এবার এল।
হাতে হাতে মিলিয়ে
সবে একবার গান ধরো,
এসো ‘ঋতুচক্র’ এসো
আমায় পূর্ণ করো।”

কলকাতার থিমের পুজোর ইতিহাসে বহু বছর ধরেই পরিচিত নাম পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লী। প্রতি বছরই অভিনব থিমের মাধ্যমে নানান রকম সামাজিক বার্তা দেয় এই পুজো কমিটি। এবছরও পুজোর কর্মকর্তারা ঋতুচক্র নিয়ে সংস্কারের গণ্ডি কাটানোর সামাজিক বার্তা দিতে চাইছেন। ঋতুচক্র একজন ঋতুমতী নারীর স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ। আমাদের সমাজজীবনে ঋতুমতী নারীদের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও সামাজিক সংস্কার আরোপ করা হয়। তাতে ঋতুমতী নারীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়, মর্যাদা হানি করা। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগও পান না একজন ঋতুমতী নারী। সময় এসে গেছে কুসংস্কার কাটানোর। তাই
স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ যা সেই ঋতুচক্র নিয়ে সংস্কার কাটানোর সামাজিক বার্তা দিতে চাইছে পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।

Related Articles