ক্রমেই NDA-এর বৃত্ত ছোট হচ্ছে, শক্তিসঞ্চয় করছে ‘INDIA’ সমীকরণের হিসেব নিকেশ কোন পথে!
NDA vs INDIA

The Truth of Bengal: একটা বিন্দু ছিল, তার থেকেই জন্ম নিচ্ছে একটা সিন্ধু। সময়ের ঢেউয়ে সেই বিন্দু কতবার আমজনতার লোকচক্ষু থেকে মুছে গিয়েছিল, কিন্তু তার অস্তিত্ব যে ছিল, তা ফের জানান দিয়েছে। আর সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে, পূবের আকাশ ধীরে ধীরে ফর্সা হচ্ছে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে থেকেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন শিবির। বিজেপি আত্মবিশ্বাসী আগামী নির্বাচনে তারা ফের একবার একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু সত্যিই কি আসছে, নাকি রাজনীতির অঙ্ক বদলাচ্ছে ধীরে ধীরে! সেই অঙ্কতে আসা যাক পরে, তা আগে দেখে নেওয়া যাক, বর্তমান সময়ে কোন শিবির কতটা শক্তি ধারণ করে আছে!
হালের সমীকরণ বলছে, লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে এনডিএ শিবিরে রয়েছে ৩৩২টি আসন। জোটের মধ্যে শুধু বিজেপির দখলেই রয়েছে ৩০১টি আসন। অর্থাৎ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতায় বিজেপি। অন্যদিকে, সম্প্রতি বিরোধী জোট শিবির ‘ইন্ডিয়া’র জোট অঙ্ক কষলে দাঁড়াচ্ছে ১৪১ টি আসন। তার মধ্যে কংগ্রেসের দখলে রয়েছে ৪৯টি আসন, দ্বিতীয় স্থানে ডিএমকে, ২৪টি আসন এবং তৃতীয় স্থানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, ২৩টি আসন, চতুর্থ স্থানে রয়েছে জনতা দল ইউনাইটেড ১৬টি আসন। বাকি ২২টি দলের কারও কাছেই দুই অঙ্ক পেরোনোর মতো নম্বর নেই। চলতি বছরেই রয়েছে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভার ভোট, মিজোরাম, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং তেলেঙ্গানা। এই রাজ্যগুলির নির্বাচনী ফলাফল, অনেককিছু সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ঠিক যেভাবে ২০২২ সালে হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে পালাবদল হওয়ার পর ক্ষমতা দখল করেছে কংগ্রেস। তেমনই উত্তরাখণ্ডে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস। একই ভাবে চলতি বছরের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে বিজেপি।
২০১৯ সালে নির্বাচনের আগে থেকেই তৃতীয় ফ্রন্টের জন্য বিশেষ উদ্যোগী হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অনেক আগেই আন্দাজ করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোন অশনি সঙ্কেত আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই সময়, সমস্ত দলগুলি দ্বিধাবিভক্ত ছিল, সমন্বয়ের দিক অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়েছিল আঞ্চলিক দলগুলি। কিন্তু পাঁচ বছর পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন অনেকটাই হয়েছে, ফলে, বিরোধী শক্তি যে কতটা জরুরি তা অনুভব করতে পারছে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। কলকাতার মাটি থেকেই বিরোধী শক্তির নয়া সূচনা তৈরি হয়েছে। এই জোটে যাতে কোনওরকম সংকট না আসে, তার জন্য মূল কাঠামো তৈরি করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪-এর আগেই দুটি বিরোধী জোটের বৈঠক হয়েছে, প্রথম বৈঠক পাটনা, দ্বিতীয় বৈঠক বেঙ্গালুরু। আর এই বৈঠকেই যে শক্তির চমক উঠে এসেছে, তার আঁচ পেয়েছে এনডিএ। ফলত প্রথম বৈঠকের পর যেভাবে প্রহসনের মেজাজে ছিল, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দ্বিতীয় বৈঠকের পরেই, তারা অনেক বেশি আগ্রাসী হয়েছে, জোটের নামকে আঘাত করতে। এটাই কি চেয়েছিল বিরোধী জোট! যে নতুন নামকেই আঘাত করুক বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব! আর এখানেই কিছুটা ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
রাজনৈতিকমহলের মত, এবারে বেশ কয়েকটি বিষয়ে চাপে রয়েছে বিজেপি। কারণ, যেভাবে প্রায় প্রত্যেকটি বিরোধীরা রাজনৈতিক দলগুলির কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, যেমন ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতরের অপব্যবহার করে। তা কার্যত বুমেরাং হতে পারে ২৪-এর নির্বাচনে। দিল্লিতেও, যে কৌশলে প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে প্রথমে অর্ডিন্যান্স ও পরে সংসদে বিল একতরফাভাবে পাস করানো হয়েছে, তাও দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানেই উঠছে প্রশ্ন, প্রতিহিংসা দিয়ে কি রাজনীতির অঙ্ক কষা যায়? হয়তো স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা তা সম্ভব হয়, কিন্তু গণতন্ত্রে? না স্বাধীন ভারতে বিশ্বের বৃহত্তর গণতন্ত্রের ইতিহাস সে কথা বলে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৪ এর আগে, যেহারে ইডি, সিবিআইকে ময়দানে ব্যবহার করা হচ্ছে তা আম জনতার কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একের পর এক জনমুখী প্রকল্প থেকে যেভাবে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন, তাতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম, লাগামছাড়া হচ্ছে, জীবনদায়ী ওষুধের দাম যেহারে বাড়ছে, জীবনযাত্রাই ক্রমশ দামী হয়ে উঠেছে। উল্টোদিকে, কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে যেহারে সাহায্য করা হচ্ছে, ঋণ মকুব করা হচ্ছে, তার পুরোপুরি বোঝা এসে পড়ছে আম জনতার উপর। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের ঋণ, কর মকুব করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সাধারণ মানুষের, গাড়ি, বাড়ি বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার ইএমআই। তৃণমূলস্তরে, যে চাপা ক্ষোভের আগুন দানা বাঁধছে, পুঞ্জিভূত হচ্ছে, তার আঁচ হয়তো পাচ্ছেন না, কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উচ্চ অট্টালিকা, প্রাসাদে থাকা নেতামন্ত্রীরা। আর এই ক্ষোভের আঁচকেই, হাতিয়ার করে, নতুন করে লড়াইয়ে জয় পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। আর সেই সমীকরণের সূত্র দিয়ে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্র একটাই, নিঃস্বার্থ লড়াই আগে, তারপর পদের আশা। কোনও এক মুখকে সরাতে মিলিত শক্তিই জরুরি, তাই দুর্গাপুজোর পুজোর আগেই, আদি শক্তির আরাধনার মন্ত্রই যেন ইন্ডিয়াজোটের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে।






