
The Truth of Bengal: এক ঘেয়েমি কাজের চাপে হাঁসফাঁস করছেন? শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি পেতে চান? এবার ভ্রমণ পিপাসু বাঙ্গালীদের মিলবে নতুন অফবিট ডেসটিনেশনের ঠিকানা। আর এই নতুন ঠিকানার নাম লাটপাঞ্চার। লেপচা ভাষায় ‘লাট’ কথার অর্থ বেত এবং ‘পাঞ্চার’ কথার অর্থ জঙ্গল। শান্ত, নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে মহানন্দা অভয়ারণ্যের মাথার উপর ছোট এই পাহাড়ি গ্রাম। প্রায় ৪২০০ ফুট গড় উচ্চতায় অবস্থিত লাটপাঞ্চার গ্রাম, যার দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৪১কিমি। গ্রামের যে অংশেই যাবেন গোটা অংশ জুড়ে শুধুই কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য।
পাখি দেখতে ভালো বাসেন না এমন মানুষ মেলা ভার। বর্ষায় রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান বন্ধ থাকলেও পাখি দেখার ক্ষেত্রে আর চিন্তা নেই পক্ষী প্রেমীদের। পাহাড়ি গ্রাম লাটপাঞ্চার গেলেই পাখি দেখার শখ পূরণ হয়ে যাবে। দেখা মিলবে হরেক রকম হিমালিয়ান পাখির। ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি ভালবাসেন? তাহলে অবশ্যই একবার ঘুরে আসা দরকার লাটপাঞ্চার থেকে। দুটি পাহাড়ের মধ্যে খানে বিস্তীর্ণ এই সমতল ক্ষেত্র। যার উপরির দিকে তাকালে দেখা যাবে তিস্তার আঁকা বাঁকা গতিপথ। লাটপাঞ্চারে গেলে দেখতে পাবেন বিরল প্রজাতির রেড হেডেড ট্রোগেন, স্কারলেট মিনিভেট, গ্রে কুনচ্যাট, ম্যাগপাই, লংটেইলড ব্রডবিল এবং দুর্লভ প্রজাতির রুফাস নেকড হর্নবিল। এছাড়াও দেখতে পেয়ে যেতে পারেন মালয়ান জায়েন্ট স্কুইরেল, হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, চিতাবাঘ ও স্যালাম্যান্ডার। লাটপাঞ্চারের জঙ্গলে প্রায় ২৪০ প্রজাতির পাখি এবং ৩৬ প্রকারের বন্যপ্রাণীর রয়েছে। লাটপাঞ্চার থেকে দু’কিলোমিটার দূরে রয়েছে সানসেরিদাঁড়া ভিউ পয়েন্ট। আর সেখান থেকেই সকলে চোখ খুলেই দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘার নৈর্সগিক দৃশ্য।
এ ছাড়াও ছোট বাঁশের সারি, অর্কিড ও পাহাড়ি ফুলের মেলা, সিঙ্কোনা আর এলাচ গাছের ভিড় গোটা গ্রাম জুড়ে। তার সঙ্গে পাইনের জঙ্গল রয়েছে। জঙ্গলের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে চেনা-অচেনা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনতে পাবেন গোটা অঞ্চলে জুড়ে । লাটপাঞ্চার থেকে ঘুরে নিতে পারেন অহলদাড়া, লাটকুঠি, পাঁচপোখরি, সামসারিদাঁড়া, লেপচা মনাস্ট্রি ইত্যাদি। দু’দিনের অবসর যাপনের এক আদর্শ পাহাড়ি গ্রাম এটি ।
কীভাবে যাবেন?
প্রথমে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে পৌঁছে যেতে হবে, নিউ জলপাইগুড়ি। শিলিগুড়িতে থেকে শেয়ার জিপে পৌঁছে যাবেন লাটপাঞ্চার। দূরত্ব কম বেশি ৪৮ কিলোমিটার। এছাড়া কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারেন । পাহাড়ি এই গ্রামে রাত্রিবাসের জন্য চিন্তার কোন কারন নেই, কারন রয়েছে বেশ কিছু হোম স্টে ।






