ভ্রমণরাজ্যের খবর

প্রাচীনত্বের ভিত লুকিয়ে আছে বল্লালঢিবিতে! জেনে নিন কিভাবে যাবেন

Tourism of West Bengal

The Truth of Bengal: প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন শহরের প্রাচীনত্বের ভিত লুকিয়ে আছে মায়াপুরের বল্লালঢিবিতে। যেখানে সেযুগের রাজকীয় রমরমার উপাদান আর বৈভবের স্পষ্ট ছোঁয়া পাওয়া যায়। কেন এই বল্লালঢিপির কথায় আমরা এলাম তাহলে একটু বলি। বাংলার অন্যতম শক্তিশালী রাজা ছিলেন বল্লাল সেন।  ১০৮৩ থেকে ১১৭৯ সালের মধ্যে তিনি ছিলেন সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা। তাঁর রাজধানী ছিল নবদ্বীপ। পরে যা তুর্কি উচ্চারণে হয়ে ওঠে নওদিয়াহ। যা থেকেই নাকি পরবর্তী কালে গোটা জেলার নাম হবে নদিয়া!আর এই নবদ্বীপের ওপারে রয়েছে মায়াবী মায়াপুর।যার প্রত্যন্ত গ্রাম বল্লালদিঘি। সেখানেই কেয়ারলেসভাবে পড়ে রয়েছে বল্লালঢিবি।

সেই বল্লালঢিবি ঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে অতীতের অজানা বিষয় বল্লাল ঢিবি চিরকালই রহস্যের চাদরে মোড়া এক আশ্চর্য স্থান। আসলে কি এই বল্লাল ঢিপি ? সত্যিই কি সেন রাজাদের প্রাসাদের ধ্বংস স্তূপ?  না কি  অন্যকিছু ? ইতিহাসসন্ধানীরা বলছেন, বল্লাল ঢিপির উত্তর দিকে মাটির নীচে কম-বেশি এক কিলোমিটার খুঁড়লেই মিলতে পারে মধ্যযুগের ইতিহাসের চাপা পড়ে থাকা কাহিনি। খনন কার্য চলাকালীন তিনি তেমনই নিদর্শন পেয়েছিলেন। কিন্তু মাঝ পথেই থমকে যায় উৎখননের কাজ।  এবার একটু যাব ঘটনাস্থলে।

বাইশগজী দেওয়াল থেকে আমবাগানের মাঝখান দিয়ে বাঁ দিকে মাটির রাস্তা চলে গিয়েছে। বাঁ দিকে কিছু দূর হেঁটে যাওয়ার পর দেখতে পাবেন  অস্পষ্ট এক বোর্ডে লেখা ‘বল্লালবাটি’। সেটা যে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছে সেটা স্পষ্টই বোঝা যায়। পুরাতত্ববিদ বিমল বন্দোপাধ্যায় একটি মাটির ঢিবি খুঁড়ে বার করেন,সেটাই হয়ে যায় এই বল্লালবাটি। এটা আদৌ বল্লাল সেনের তৈরি কিনা সেটা নিয়ে কেউ কেউ  প্রশ্ন করেন। তবে ইতিহাস অনুযায়ী ধরে নেওয়া হয়েছে যে এটি আসলে বল্লাল সেনই বানিয়েছিলেন আর সুলতান বারবক শাহ এটা সংস্করণ করেন বা প্রথম থেকে আবার করে তৈরি করেন।

তবে সেসব কথায় না গিয়ে আপনি যদি চৈতন্যের জন্মভূমির কাছে এই প্রত্নতত্বের আদিস্থানে যান তাহলে অনেককিছু জানতে পারবেন তা এককথায় বলাই যায়। কিভাবে যাবেন মায়াপুরে? কোলকাতা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে রয়ে্ছে এই  মায়াপুর  । সড়ক পথে এসপ্ল্যানেড থেকে সরাসরি মায়াপুরের বাসে করে যাওয়া যাবে, বাসটি ইসকন মন্দিরের একেবারে সামনে গিয়ে নামিয়ে দেবে।এছাড়াও শিয়ালদাম ষ্টেশন থেকে কৃষ্ণনগর লোকাল ট্রেনে অথবা লালগোলা গামী যেকোনো ট্রেনে উঠে কৃষ্ণনগর ষ্টেশনে নামতে হবে। কৃষ্ণনগর থেকে বাসে অথবা প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি মায়াপুরে যাওয়া যায়।

Related Articles