দিওয়ালির উপহার দেওয়া-নেওয়াই দূষণের কারণ! প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে শোরগোল
দিওয়ালির আগেই বাতাসের মান ৪০০ পার! দিল্লির মারাত্মক দূষণ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি
Truth of Bengal: দীপাবলি ও উৎসবের আনন্দের মাঝেই রাজধানী দিল্লি এবং তৎসংলগ্ন এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকার আকাশ ঢেকেছে গাঢ় বিষাক্ত ধোঁয়াশায়। বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছোনোয় শুক্রবার ফের তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে কেবল উদ্বেগপ্রকাশই নয়, দিল্লিবাসীর এই করুণ অবস্থা ও দুর্ভোগ নিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতির মুখে শোনা গেল তীক্ষ্ণ রসিকতার সুর। তিনি এজলাসে শুনানির সময় কটাক্ষের ছলে বলে উঠলেন, “আশা করি আপনারা সবাই দিল্লির এই আবহাওয়া উপভোগ করছেন!”
সিপিসিবি-র রিপোর্টে কপালে চিন্তার ভাঁজ
বর্তমানে দিল্লির বায়ুদূষণ চূড়ান্ত আশঙ্কাজনক স্তরে গিয়ে ঠেকেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) দেওয়া শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে গড় বায়ুগুণমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮৯। তবে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেই মাত্রা ইতিমধ্যেই ৪০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। উৎসবের মরশুমে অর্থাৎ দিওয়ালির আগেই বায়ুদূষণ ‘গুরুতর’ বা বিপজ্জনক মাত্রার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। আলোর উৎসবে বাজি ও অতিরিক্ত ধোঁয়ায় এই মাত্রা যে আরও আশঙ্কাজনক রূপ নেবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
দিওয়ালির উপহার দেওয়ার হিড়িক ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
এই দূষণ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এক চাঞ্চল্যকর সামাজিক দিক তুলে ধরে। প্রধান বিচারপতির মতে, দীপাবলিতে উপহার দেওয়া-নেওয়ার এই সামাজিক রীতিই দিল্লির দূষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমাজের বিত্তশালী শ্রেণির মানুষ নিজেদের সামাজিক প্রতিপত্তি ও মর্যাদা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে উপহারের আদান-প্রদানকে ব্যবহার করছেন।
আর এই উপহার দেওয়ার জন্য রাজধানী দিল্লির বাইরে থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি শহরে প্রবেশ করছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “দিল্লির ভেতরের গাড়ির চেয়েও মূল সমস্যা তৈরি করছে শহরের বাইরে থেকে আসা বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়া গাড়িগুলি।”
অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি ও গাড়ির ধোঁয়া
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না স্পষ্ট জানান, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনবরত গাড়ি শহরে ঢুকছে, অথচ সেই সব গাড়ির সামগ্রিক ফিটনেস কিংবা সেখান থেকে কী পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তা পরীক্ষা করার মতো কোনো পরিকাঠামো বা উপায় এই মুহূর্তে নেই।
মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতির সংযোজন, একটি অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি যদি মাত্র দু’ঘণ্টার জন্যও দিল্লিতে ঢোকে, তবে যে পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মেশায়, তাতেই যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়। উৎসবের মরশুমে শহরের এই বেহাল দশা সামলাতে রাজ্য ও কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।






