কালীপুজোর আগে হঠাৎ কোথা থেকে আসে হাজার হাজার শ্যামাপোকা? জানুন আসল কারণ
সন্ধ্যা নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে হাজির হচ্ছে ছোট ছোট সবুজ রঙের শ্যামাপোকা
Truth of Bengal: দুর্গাপুজো শেষ হতেই ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ। সন্ধ্যা ও রাতের দিকে হালকা শীতের আমেজও অনুভূত হচ্ছে। আর কয়েকদিন পরেই কালীপুজো ও দীপাবলি। উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজ্যবাসী। কিন্তু এই সময়েই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে এক অন্যরকম উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে হাজির হচ্ছে ছোট ছোট সবুজ রঙের শ্যামাপোকা। তাদের দাপটে ঘরের আলো জ্বালিয়ে রাখাই হয়ে উঠছে মুশকিল। কিন্তু বছরের এই নির্দিষ্ট সময়েই কেন এত বেশি দেখা যায় শ্যামাপোকা? এর পিছনে রয়েছে বিশেষ প্রাকৃতিক ও কৃষিজ কারণ।
সন্ধ্যা হলেই শ্যামাপোকার দাপট!
কালীপুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সন্ধ্যা নামলে দল বেঁধে উড়ে আসতে শুরু করে শ্যামাপোকা। বাড়ির বাল্ব, রাস্তার আলো কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের চারপাশে ঘুরতে থাকে তারা। কখনও চোখে-মুখে, কখনও নাক বা কানের ভিতর ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর ঘরের মেঝে, জানলার ধারে কিংবা আলোর নীচে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অসংখ্য মৃত পোকা। ফলে এই সময়টায় শ্যামাপোকার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বহু মানুষ।
কেন কালীপুজোর সময়েই বাড়ে শ্যামাপোকার উপদ্রব?
আসলে শ্যামাপোকার সঙ্গে ধান চাষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ধান গাছের রসই এদের অন্যতম প্রধান খাদ্য। সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এদের সক্রিয়তা বাড়ে। এই সময় ধান গাছে শিষ আসতে শুরু করে। সদ্য শিষ বেরোনো ধান গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে এই পোকা। ফলে কৃষিজমিতে এদের উপস্থিতি ফসলের ক্ষতির কারণও হতে পারে। অন্যদিকে, কৃত্রিম আলোর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতার কারণে সন্ধ্যা হলেই বাড়িঘর ও রাস্তায় আলোর চারপাশে ঝাঁক বেঁধে উড়তে দেখা যায় তাদের। আর সেই কারণেই কালীপুজোর আশপাশের সময়ে শ্যামাপোকার উপদ্রব সাধারণ মানুষের কাছে বেশি চোখে পড়ে।
আগের তুলনায় কি সত্যিই কমেছে শ্যামাপোকা?
একসময় কালীপুজোর আগে বাংলার বহু এলাকায় শ্যামাপোকার দাপট ছিল রীতিমতো পরিচিত দৃশ্য। তবে বর্তমানে শহরাঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে পর্যবেক্ষণ করছেন অনেকে। পরিবেশের পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং চাষের জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার—এই বিষয়গুলি পোকামাকড়ের সংখ্যা ও বিস্তারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত ধান চাষের জমি কমে গেলে শ্যামাপোকার খাদ্য ও প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশও কমে যায়। শ্যামাপোকা আর্দ্র পরিবেশে বেশি সক্রিয় থাকে বলেও জানা যায়। ফলে তাপমাত্রা ও পরিবেশের আর্দ্রতার পরিবর্তন তাদের জীবনচক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।





