রাজ্যের খবর

কারখানায় ধর্মঘট করলেই সোজা জেল! কমিউনিস্টদের চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

"কাজ বন্ধ করলে সোজা জেলে ঢুকিয়ে দেব!" কারখানার গেটে ঝামেলা পাকানো নিয়ে একবিন্দু ছাড় নয় মুখ্যমন্ত্রীর

Truth of Bengal: রাজ্যে শিল্পখরা কাটাতে এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বৃহস্পতিবারই ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ সম্বলিত নয়া শিল্পনীতির সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এই মেগা ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকারখানায় কাজ বন্ধ বা ধর্মঘট করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একেবারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, কারখানার গেটে ঝামেলা পাকালে বা কাজ বন্ধ করলে সোজা জেলের ভাত খেতে হবে।

নতুন শিল্পনীতি ও শিল্পপতিদের স্বস্তি

বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে যে নতুন শিল্প নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বিগত বাম ও তৃণমূল আমলের জমানার বহু ভুলভ্রান্তি শুধরে নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলের ভুল শিল্পনীতি এবং জটিল জমিজটের কারণে যেখানে একসময় লগ্নিকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে লগ্নি ও ইনসেনটিভ নির্ভর নতুন জমিনীতি তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। প্রায় পাঁচ দশক পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সহযোগিতায় শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিল্পমহল ও বৃহৎ শিল্পপতিরা যথেষ্ট খুশি প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।

ধর্মঘট ও কাজ বন্ধের সংস্কৃতিতে জিরো টলারেন্স

রাজ্যের উন্নয়নের এই রকেট গতিকে কোনওভাবেই বিঘ্নিত হতে দিতে নারাজ প্রশাসন। তাই এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কড়া সুরে ‘কমিউনিস্ট’ ও বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁরা কাজ বন্ধ করবেন, তাঁদের কাজ বন্ধ করে দেব। জেলে ঢোকাব। অনেকদিন জেলে থাকবেন।”

তিনি আরও পরিষ্কার করে দেন যে, শ্রমিকদের কোনো অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে তার জন্য নির্দিষ্ট ‘লেবার কমিশন’ (Labor Commission) রয়েছে। সেখানে গিয়ে সমস্ত সমস্যার আইনি সমাধান করা যেতে পারে, কিন্তু কোনো অজুহাতেই কল-কারখানায় উৎপাদন বা কাজ বন্ধ করা বরদাস্ত করা হবে না। অতীতে বাম ও তৃণমূল জমানায় রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন সময় যে ট্রেড ইউনিয়ন বা ধর্মঘটের নামে শিল্পকে কোণঠাসা করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে রাজ্যে আইনের কঠোর শাসন ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে যে বদ্ধপরিকর, মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঙ্কারে তা ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

Related Articles