রাজ্যের খবর

‘ভাইপোর কী হয়, সময় হলে দেখতে পাবেন’! ‘ইন্ডি’ জোট থেকে তৃণমূল—শিলিগুড়ির মঞ্চে একযোগে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর

মিছিল শেষে সভামঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ফের তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেন তিনি

Truth of Bengal: বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে মিছিল ও সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিছিল শেষে সভামঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ফের তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেন তিনি। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিষেককে উদ্দেশ্য করে তাঁর মন্তব্য, “ভাইপোর কী হয়, সময় হলে দেখতে পাবেন।” এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক কাজকর্মের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা এবং উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতি মাসেই উত্তরবঙ্গ সফর করেন তিনি। এদিনও শিলিগুড়িতে পৌঁছে উত্তরকন্যায় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির মিছিলে অংশ নেন। মিছিল শেষে সভামঞ্চ থেকে বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোট, সিপিএম এবং তৃণমূল নেতৃত্বকে একযোগে আক্রমণ করেন তিনি।

শিলিগুড়ির সভা থেকে পরিবারতন্ত্রের প্রশ্নেও সরব হন শুভেন্দু। কংগ্রেসের গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে নেহরু, ইন্দিরা, রাজীব ও রাহুলের প্রসঙ্গ তুলে দলীয় রাজনীতিতে বংশপরম্পরার অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতাকে ‘২জি’ এবং গান্ধী পরিবারকে ‘৪জি’-র সঙ্গে তুলনা করে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগে সরব হন তিনি। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন শুভেন্দু। নাম না করে ভাইপো প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? ভাইপোর কী হয়, সময় হলে দেখতে পাবেন।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই সরকার শাহজাহান কিংবা পুষ্পার মতো কাউকেই ছাড়েনি। তাঁর এই মন্তব্যের পর অভিষেককে ঘিরে কোনও বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি যতদিন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে, ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ভোটে জয়লাভ করা সম্ভব হবে না। বিরোধীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। এদিন সিপিএম ও বিরোধী জোটকেও রেহাই দেননি মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভোটে পরাজিত দলগুলি সেখানে একজোট হয়েছে। বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে ‘আরশোলা’ ও ‘ছারপোকা’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই বিরোধীরা দেশের ভিতরে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।

Related Articles