বাবরি মসজিদ ইস্যুতে ফের হুঙ্কার হুমায়ুনের! প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ, জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক
“প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।”
Truth of Bengal: বাবরি মসজিদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, “প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।” রবিবার বেলডাঙার বরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়-ব্যয়ের হিসেব সংক্রান্ত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই হুঁশিয়ারি দেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সভামঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর জানান, আগামী ৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক তাঁদের দখলে থাকবে। তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদের আবেগকে সামনে রেখে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ওইদিন রাস্তায় নামবেন। শুধু জাতীয় সড়ক নয়, কৃষ্ণনগর, ডোমকল, জলঙ্গি, সাঁইথিয়া, কান্দি ও বর্ধমান থেকে নবদ্বীপ ব্রিজ হয়ে বহরমপুরের বিভিন্ন রাস্তাতেও কয়েক ঘণ্টার জন্য অবরোধ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, এর আগেও বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাস্তায় জমায়েত হয়েছিল। সেই সময় পুলিশ প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ জানে, আমরা কেউ আইনশৃঙ্খলা ভাঙিনি, আগামী দিনেও ভাঙব না।” একইসঙ্গে ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সকলকে তাঁর সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান হুমায়ুন।উল্লেখ্য, গত বছর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বাবরি মসজিদকে রাজনৈতিক ইস্যু করে সক্রিয় হন হুমায়ুন কবীর। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নিজের বিধানসভা এলাকার বেলডাঙায় মসজিদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই ঘোষণাকে ঘিরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসনের তরফেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছিল। এবার সেই প্রশাসনকেই ফের চ্যালেঞ্জ জানালেন বিধায়ক।
এদিন সভায় মসজিদের নির্মাণ পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে দোতলা বাবরি মসজিদ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের নমাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মসজিদ চত্বরে আরও ২০ হাজার মানুষের নমাজ পাঠের সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি। মসজিদের বেসমেন্টে তৈরি হচ্ছে একাধিক ঘর। বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়ে সেখানে থাকতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক। আগামী ৬ ডিসেম্বর মসজিদের উদ্বোধন হবে বলে তাঁর ঘোষণা। ওইদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।






