রাজ্যের খবর

গঙ্গাসাগর মেলায় এবার বাড়তি ৬ লক্ষ বর্গফুট, জাতীয় স্বীকৃতির আশায় জোর প্রস্তুতি

ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগামী গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বড় আকারে সাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার

জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতা: ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগামী গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও বড় আকারে সাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত, রাত্রিবাস ও পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি মেলাপ্রাঙ্গণের পরিসরও বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, গতবারের প্রায় ১২ লক্ষ বর্গফুটের মেলাপ্রাঙ্গণ এবার বেড়ে ১৮ লক্ষ বর্গফুট হতে চলেছে। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় বাড়ছে আরও ৬ লক্ষ বর্গফুট এলাকা।

মেলার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিড় সামলাতে পরিবহণ ও যাত্রী পরিষেবার উপর বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। বাড়তি বাসস্ট্যান্ড, হেলিপ্যাড এবং যাত্রীনিবাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা কম হয়, সেই লক্ষ্যেই পরিকাঠামো সাজানোর কাজ চলছে।

এদিকে, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজ্যের বক্তব্য, এই পুণ্যতীর্থে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হলেও উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগের আরও প্রয়োজন রয়েছে। গঙ্গাসাগরকে রেল ও সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনার দাবিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে আগেই আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানিয়েছেন, জাতীয় স্বীকৃতির বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরেই সেই স্বীকৃতি মিলতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদী। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

পুণ্যার্থীদের জন্য পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করাও প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গত বছর জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরকে এই খাতে ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবার তার চেয়েও বেশি অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পূর্ত দফতরের বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে। মেলার পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। যদিও বাড়তি বরাদ্দের চূড়ান্ত অঙ্ক এখনও নির্ধারিত হয়নি।

সব মিলিয়ে, মেলাপ্রাঙ্গণের সম্প্রসারণ থেকে পানীয় জল, পরিবহণ ও রাত্রিবাস, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি জোরদার করছে নবান্ন। একদিকে পুণ্যার্থীদের পরিষেবা উন্নত করা, অন্যদিকে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় স্তরে আরও পরিচিত করে তোলা, এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে আগামী মেলার পরিকল্পনা।

Related Articles