লাইফস্টাইল

ফুরোচ্ছে কন্ডোমের দিন? মিলনের ৩০ মিনিট আগেই পুরুষদের জন্য আসছে ম্যাজিক পিল!

ওষুধটি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে

Truth of Bengal: গর্ভনিরোধের দায়িত্ব কি এ বার শুধু মহিলাদের কাঁধে থাকবে না? যৌনমিলনের আগে পুরুষরা একটি বড়ি খেলেই যদি কয়েক ঘণ্টার জন্য শুক্রাণুর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তা হলে বদলে যেতে পারে এত দিনের প্রচলিত গর্ভনিরোধের ধারণা। এমনই এক সম্ভাবনাকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণায় তৈরি হচ্ছে পুরুষদের জন্য নতুন ধরনের গর্ভনিরোধক বড়ি (Male Birth Control Pill)। প্রাথমিক গবেষণায় ইঙ্গিত, ওষুধটি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে। তবে এখনই একে নিশ্চিত গর্ভনিরোধক হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। মানুষের শরীরে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা এখনও পরীক্ষার অপেক্ষায়।

শুক্রাণু তৈরি হবে, কিন্তু চলাচল বন্ধ!

পুরুষদের জন্য এই নতুন গর্ভনিরোধক বড়ির সবচেয়ে অভিনব দিক হল, এটি শুক্রাণু তৈরি বন্ধ করার চেষ্টা করছে না। বরং শরীরে আগে থেকেই তৈরি শুক্রাণুর চলাচল সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে এই ওষুধ। এত দিন পুরুষদের গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে ভ্যাসেকটমি পরিচিত। পাশাপাশি পুরুষদের জন্য হরমোনভিত্তিক গর্ভনিরোধক তৈরির গবেষণাও চলছে। কিন্তু নতুন এই ওষুধের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছতে হলে সক্রিয়ভাবে চলাচল করতে হয়। গবেষকদের পরিকল্পনা, শুক্রাণুর এই চলাচল সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে ওষুধটি। ফলে শুক্রাণু তৈরি হলেও তা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। গবেষকদের আশা, ওষুধের প্রভাব কেটে গেলে শুক্রাণুর চলাচল এবং পুরুষের প্রজননক্ষমতা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

৩০ মিনিটেই কাজ শুরু? প্রভাব থাকতে পারে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা

নতুন এই ওষুধের সম্ভাব্য কার্যকারিতার সময়সীমা নিয়েই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। গবেষণার প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বড়িটি খাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে। এর প্রভাব স্থায়ী হতে পারে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, প্রতিদিন নিয়ম করে গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য একটি পদ্ধতি তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

তবে এই সময়সীমা এখনও মানুষের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। বাস্তবে ওষুধটি কত দ্রুত কাজ করবে, কতক্ষণ তার প্রভাব থাকবে এবং গর্ভধারণ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কন্ডোমের প্রয়োজন কি সত্যিই ফুরোবে?

পুরুষদের জন্য নতুন গর্ভনিরোধক বড়ি তৈরি হলে গর্ভনিরোধের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই ওষুধ কন্ডোমের বিকল্প হয়ে উঠবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ, গর্ভধারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কন্ডোমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নতুন বড়িটি সেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।