আরব সাগরের তুলনায় বঙ্গোপসাগরে চার গুণ বেশি ঘূর্ণিঝড়! কেন এমন প্রবণতা?
ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য সমুদ্রের উষ্ণ জলভাগ, নিম্নচাপ এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।
Truth of Bengal: অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আছড়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই সামনে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরব সাগরের তুলনায় বঙ্গোপসাগরে প্রায় চার গুণ বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—বর্ষা পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য সমুদ্রের উষ্ণ জলভাগ, নিম্নচাপ এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের জল থেকে বাষ্পীভূত হওয়া আর্দ্র বাতাস উপরে উঠে ঘনীভূত হলে তাপশক্তি নির্গত হয়। এর ফলে নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে চারপাশ থেকে বাতাস টেনে নেয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অন্তত ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের উল্লম্ব গতির পার্থক্য কম থাকলে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
কেন বঙ্গোপসাগরে বেশি ঘূর্ণিঝড়?
বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ ও আন্দামান সাগরে নিয়মিত পূবালি বায়ুতরঙ্গ বা ‘ইস্টার্লি ওয়েভ’ তৈরি হয়। এগুলি ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রাথমিক বীজ হিসেবে কাজ করতে পারে। কখনও প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি টাইফুনের অবশিষ্টাংশও বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে।
এছাড়া বঙ্গোপসাগরের জল তুলনামূলক উষ্ণ এবং নদী ও বৃষ্টির জলের কারণে এর উপরিভাগে কম লবণাক্ত জলের স্তর তৈরি হয়। ফলে গভীরের উষ্ণ জল সহজে উপরের স্তরের সঙ্গে মিশে যায় না। এই কারণে সমুদ্রের উপরিভাগ দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ থাকে, যা ঘূর্ণিঝড় তৈরির পক্ষে অনুকূল।
বর্ষাকালে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে বড় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া কঠিন হলেও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাতাসের সেই বাধা কমে যায়। তখন উষ্ণ সমুদ্র এবং অনুকূল পরিবেশ ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।





