কলকাতা

‘কেউ কথা রাখেনি’, মদন মিত্রের সুরেই আক্ষেপ শিউলি সাহার! নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হলেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা

Truth of Bengal: পুজোর রেশ কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি। তার মধ্যেই ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে চোখের জল ফেলেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হলেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী বলে উল্লেখ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর সামনে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই বলেই জানালেন শিউলি। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তার অভাবে পুজোর দিনগুলিতেও নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। মদন মিত্রের মতোই পুজোর সময় বাড়ি থেকে বেরতে না পারার আক্ষেপ শোনা গিয়েছে শিউলি সাহার গলায়। তাঁর দাবি, বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। সরকারি সামগ্রী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিডিও তাঁকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে সেই কাজও করতে পারেননি বলে অভিযোগ তাঁর। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কেশপুরের বিধায়ক।

এই প্রসঙ্গেই মদন মিত্রের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন শিউলি। তাঁর কথায়, “মদনদা যা বলেছেন, ঠিক। কেউ কথা রাখেনি। এটা আমার একার কথা নয়, সব বিধায়কদের একই অবস্থা।” নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিউলি সাহা। তাঁর বক্তব্য, ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে একটি আসনের নির্বাচিত বিধায়ক তিনি। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জয়ের শংসাপত্রও পেয়েছেন। অথচ দিনের পর দিন তাঁকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শিউলির অভিযোগ, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ সুপার, থানার ওসি এবং বিডিও—সকলকেই বিষয়টি জানিয়েছেন। এমনকী, নিজের রাজনৈতিক গণ্ডির বাইরে গিয়ে বিজেপি নেতাদের কাছেও সাহায্যের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। কিন্তু নিরাপত্তার প্রসঙ্গ উঠতেই সকলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ কেশপুরের বিধায়কের।

তবে এত ক্ষোভের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা স্পষ্ট করেছেন শিউলি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কি না, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। ওঁকে প্রণাম, শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু ওঁর সামনে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।” উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মদন মিত্র। রাজনীতির প্রতি নিজের বিতৃষ্ণার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, রাজনীতিতে তিনি ক্লান্ত এবং এই রাজনীতির অংশ হিসেবে নিজের প্রতিও তাঁর ঘৃণা জন্মেছে। মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা, মিথ্যা বলা ও প্রতারণার মতো বিষয় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কামারহাটির বিধায়ক। রাজনীতিকে চালের সঙ্গে তুলনা করে মদন বলেছিলেন, চালের মধ্যে কাঁকড়ের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে, সেখান থেকে বেছে নেওয়া কঠিন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজনীতি অধার্মিক ও অনৈতিক মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে।

Related Articles