দিল্লিতে রাবণের সঙ্গে দহন ৩০ ফুটের আরশোলার, দ্বারকায় ২২১ ফুটের কুশপুতুল ঘিরে চর্চা
বিশালাকার এই প্রতিকৃতি এবারের দশেরা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ
জ্যোতির্ময় দত্ত, নয়াদিল্লি: দশেরার উৎসবে এবার অভিনব আয়োজন দিল্লিতে। রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের কুশপুতুল দহনের পাশাপাশি পীতমপুরার নেতাজি সুভাষ প্লেসের মাঠে দহন করা হবে ৩০ ফুট উচ্চতার একটি আরশোলার প্রতিকৃতি। শ্রী কেশব রামলীলা কমিটির এই উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। অন্যদিকে, দ্বারকা সেক্টর-১০-এর রামলীলা ময়দানে তৈরি হয়েছে ২২১ ফুট উচ্চতার রাবণের কুশপুতুল। বিশালাকার এই প্রতিকৃতি এবারের দশেরা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
আয়োজকদের বক্তব্য, আরশোলাকে নোংরা পরিবেশ ও রোগজীবাণু ছড়ানোর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সমাজ থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নেতিবাচক প্রবণতা দূর করার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ। রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের পাশাপাশি আরশোলার কুশপুতুলেও আগুন ধরানো হবে। এদিকে, দ্বারকার রামলীলা ময়দানে ২২১ ফুটের রাবণের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার মেঘনাদ ও কুম্ভকর্ণের কুশপুতুল। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি কুশপুতুল তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। কাজে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় সাত টন লোহা। প্রায় ১২০ জন কারিগর তিন মাস ধরে এই কুশপুতুলগুলি তৈরি করেছেন। রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে রাবণ দহনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে পালিত হয় বিজয়া দশমী বা দশেরা। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, এই দিনেই রাবণকে পরাজিত করেছিলেন ভগবান শ্রীরাম। সেই ঘটনাকে স্মরণ করে দেশজুড়ে রাবণ, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদের কুশপুতুল দহনের আয়োজন করা হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় এই উৎসব। দিল্লিতে এবার ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের পাশাপাশি ৩০ ফুটের আরশোলার কুশপুতুল দহনের উদ্যোগ উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।


