“বই বিক্রি হয় না, স্রেফ ড্রামা হয়!”, বামেদের পুজো স্টল নিয়ে দিলীপের খোঁচা
সত্যি কি বিক্রি শূন্য? দিলীপের কটাক্ষের মাঝেই প্রকাশ্যে এল বামেদের পুজোর বই বিক্রির কোটি টাকার হিসাব!
Truth of Bengal: প্রতিবছর দুর্গাপুজোর মরশুম এলেই তিলোত্তমা-সহ গোটা রাজ্যজুড়ে প্যান্ডেল চত্বরে বামেদের বুক স্টল খোলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। এ বছরও তার অন্যথা হয়নি। বিশেষ করে ‘শারদোৎসব’ না লিখে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অনুমতি পাওয়ার মতো ঘটনাগুলি রাজনীতিকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই আবহে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বামেদের বই বিক্রি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, “সবাই স্টল করতেই পারে, এতদিন করেছেন, করুন। কিন্তু বই তো বিক্রি হয় না! গত ২৫ বছর ধরে সেই একই বই প্রদর্শনীতে রাখা থাকে। এটাকে স্টল না বলে প্রদর্শনী বলা উচিত। আসলে কিছু রাজনৈতিক ড্রামা করে খবরের শিরোনামে থাকার চেষ্টা করা হয়।”
তবে দিলীপ ঘোষের এই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে বাম শিবিরের অন্দরের তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে একেবারে অন্য কথা। রাজ্যজুড়ে পুজোর ক’দিন এই বুক স্টলগুলি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পুজোর দিনগুলিতে বামেদের বুক স্টলগুলি থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়। এর মধ্যে কেবল কলকাতার যাদবপুরের একটিমাত্র স্টল থেকেই কোনও কোনও বছর তিন লক্ষ টাকা বা তার থেকেও বেশি টাকার বই বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি কিংবা অন্যান্য জেলাগুলির চিত্রটাও কমবেশি একইরকম জমজমাট থাকে।
এমনকী সম্প্রতি বিশিষ্ট নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দাবি করেছেন যে, চলতি পুজোয় উৎসবের প্রথম দু’দিনের মধ্যেই শুধুমাত্র যাদবপুরের একটি স্টল থেকে প্রায় দুই লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। মার্কসবাদী ও কমিউনিস্ট সাহিত্যের পাশাপাশি এই স্টলগুলিতে জনপ্রিয় বাংলা সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কিত নানা ধারার বইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন ‘শারদোৎসব’ বনাম ‘দুর্গাপুজো’ নামকরণ বিতর্ক এবং বুকস্টল ভাঙচুরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম, ঠিক তখনই বামেদের এই ঐতিহ্যবাহী বই বিপণন কেন্দ্রগুলিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি, এবছর রেকর্ড সংখ্যক বুক স্টল নিয়ে মাঠে নেমেছে প্রতিপক্ষ বিজেপিও। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক তরজার এই লড়াইয়ে কে কাকে টেক্কা দেয়, তা বছরের অন্তিম লগ্নে বার্ষিক হিসাব সামনে এলেই পরিষ্কার হবে।






