যন্তর মন্তরে ধরনায় নিষেধাজ্ঞা কেন? কেন্দ্রকে নোটিস জারি করে হুংকার সুপ্রিম কোর্টের!
একই দিনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি মামলার শুনানিতেও উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
Truth of Bengal: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীদের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশকে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই দিনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি মামলার শুনানিতেও উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, যন্তর মন্তর নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে দেখবে আদালত। কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পালটা মামলাকারীদের আইনজীবী মুক্তা গুপ্তর বক্তব্য, প্রতিবাদের জায়গা এমন হওয়া উচিত, যেখানে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন কপিল সিবাল, গোপাল শংকরনারায়ণন ও মেনকা গুরুস্বামীর মতো আইনজীবীরা। কেন্দ্রের হয়ে আদালতে ছিলেন গৌরব ভাটিয়াও। এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চেয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। হলফনামায় তিনি দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কোনও উদ্দেশ্য পুলিশের ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া আদালত অবমাননার নোটিসও প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, রাইসিনা হিলসের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কেবল মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি, দিল্লির মোট ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৫৭টিতে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। তবে ৯ অক্টোবর আদালতের নির্দেশের পর সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ করা হয় বলে হলফনামায় জানিয়েছেন তিনি।
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশের পদক্ষেপ সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ওই নথি প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কি আদালতের মৌখিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে, নাকি যন্তর মন্তরের উপযোগিতা নিয়ে আলাদা মূল্যায়নের পর নেওয়া হয়েছিল, জানতে চায় শীর্ষ আদালত। জবাবে তুষার মেহতা জানান, সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগে গঠিত একটি কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল।
অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক মহিলা সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। মহিলা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে কেন্দ্রের আইনজীবী তুষার মেহতাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের দায়ের করা মামলাতেও বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর-এর মাধ্যমে ‘ভোটচুরি’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর কাছে জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত।





