দেশ

ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ, গ্রেফতারের পর ৫ দিনের জেল হেফাজতে আশুতোষ ও সৌরভ

দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।

Truth of Bengal: দিল্লির যন্তর মন্তরে পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড টপকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ। গ্রেপ্তারের পর ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। অন্যদিকে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক গুরু অজিঙ্ক শীন্ডেকে পিস বন্ডে সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ অক্টোবর। দিল্লি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে জানানো হয়, যন্তর মন্তরে আর কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। বিক্ষোভ বা আন্দোলন করতে হলে যেতে হবে নির্দিষ্ট তিনটি বিকল্প জায়গায়—রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান অথবা পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার ভোরে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা। অভিযোগ, ব্যারিকেড টপকে সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা।

এরপরই তিনজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বুধবার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয়। শুনানির পর অজিঙ্ক শীন্ডেকে পিস বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হলেও আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, বিনা অনুমতিতে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছেন অভিযুক্তরা। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং শান্তি বজায় রাখার শর্ত ভাঙার অভিযোগও আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এর আগে শনিবার শান্তি বজায় রাখার জন্য ৫০ হাজার টাকার বন্ডে সই করেছিলেন তাঁরা। সেই শর্তও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের অভিযোগ মানতে নারাজ ককরোচ জনতা পার্টি। দলের দাবি, আদালতে দিল্লি পুলিশ ভুল তথ্য দিয়েছে। যন্তর মন্তরে কোনও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, তাঁদের অপরাধ শুধু জাতীয় পতাকা ওড়ানো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “হিম্মত থাকলে মোদিজি, এমার্জেন্সি ঘোষণা করুন।”
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না বলে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিকল্প জায়গায় আন্দোলন করতে গেলেও খরচের বিষয়টি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বিশেষ করে রামলীলা ময়দানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বুকিং বাবদ মোট খরচ প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ১২ একর আয়তনের এই মাঠে সর্বাধিক ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিরাপত্তার জামানত ও কর যোগ হওয়ায় মোট খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৫৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য হলেও বাকি প্রায় ৬৬ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।

Related Articles