দেশ

মানহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি রাহুল গান্ধীর! নিম্ন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ

তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত

Truth of Bengal: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকার এবং মামলাকারী এম এইচ শ্রীশ্রিমলকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। রাজস্থানের একটি জনসভায় মোদিকে উদ্দেশ করে তাঁর ব্যবহার করা শব্দবন্ধ ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই মন্তব্য মানহানিকর। এর পরেই বিজেপি কর্মী মহেশ শ্রীশ্রিমল মহারাষ্ট্রের একটি আদালতে রাহুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেন।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট মুম্বইয়ের গিরগাঁওয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাহুলের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস নেতা। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে নিম্ন আদালতে মামলার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর পরেই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান রাহুল। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানিতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি আদালতের সামনে পূর্ববর্তী একাধিক বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যুক্তি পেশ করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত মহারাষ্ট্রের নিম্ন আদালতে এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র সরকার ও অভিযোগকারীকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

প্রসঙ্গত, এর আগেও মানহানি মামলাকে কেন্দ্র করে বড় আইনি জটিলতার মুখে পড়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে কর্নাটকের একটি জনসভায় ‘মোদি’ পদবি নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা পূর্ণেশ মোদি। সেই মামলায় ২০২৩ সালে গুজরাটের সুরাটের একটি আদালত রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে দু’বছরের কারাদণ্ড দেয়। যার জেরে লোকসভার সদস্যপদ হারাতে হয়েছিল তাঁকে। যদিও পরে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের পর্যাপ্ত যুক্তি না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেছিল শীর্ষ আদালত। সেই নির্দেশের পর সাংসদ পদ ফিরে পান রাহুল। তবে গুজরাটের সেই মামলা এবং মহারাষ্ট্রের বর্তমান মানহানি মামলা সম্পূর্ণ পৃথক। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহারাষ্ট্রের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে। রাহুল গান্ধীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি কিংবা মামলাটিও খারিজ করা হয়নি।

Related Articles