কলকাতা

চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে যান! ট্রোলের মুখে অগ্নিমিত্রা-শর্বরীর ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

পুরভোটেও মানুষ এদের রিজেক্ট করবে! বিরোধীদের 'জ্বালা-যন্ত্রণা' নিয়ে কুঁদঘাটে চরম তোপ শুভেন্দুর

Truth of Bengal: রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী হিসাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতায় শহরের রাস্তায় নেমে সাফাই অভিযানে কাজ করতে দেখা গিয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অতি-সংবেদনশীল শিক্ষা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সময় ওঠা অশান্তি ও রাজনৈতিক তরজা সামাল দিতে রাজপথে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে স্থানীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। তবে কাজের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও বিরোধী শিবির ও সামাজিক মাধ্যমে প্রায়শই তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয় এই দুই নেত্রীকে। এবার সেই সমস্ত আক্রমণ ও কটাক্ষের বিরুদ্ধে কড়া মেজাজে দুই সতীর্থের পাশে সরাসরি ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার কলকাতার কুঁদঘাটে আয়োজিত এক বিশেষ জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চ থেকেই পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের কাজের ভূয়সী প্রশংসা ও বাহবা দেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের কাজের প্রসংশায় মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “এখানে এমন কিছু রাজনৈতিক দল ও লোক রয়েছে, যারা নিজেদের আমলে কিচ্ছু করেনি। অথচ অগ্নিমিত্রা পাল দিনরাত এক করে প্রো-অ্যাক্টিভ ভূমিকা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। উনি দরকারে এসি অফিসেও বসেন, আবার প্রয়োজনে ধুলোবালি মেখে রাস্তাতেও থাকেন। ওঁর এই কাজ দেখেই ওদের গায়ে খুব জ্বালা যন্ত্রণা হচ্ছে! হাতে শুধু স্মার্টফোন আর ফেসবুকে বসে কটাক্ষ করাই ওদের কাজ।” পুরমন্ত্রীকে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই সমস্ত উটকো সমালোচনা সম্পূর্ণ ইগনোর করুন। সাধারণ মানুষের কাছে ওরা ইতিমধ্যেই রিজেক্টেড। আগামী পুরভোটেও জনগণ ওদের একইভাবে রিজেক্ট করবে। আপনি আপনার লক্ষ্যে ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রে এগিয়ে চলুন।”

একই সাথে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নির্ভীক ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাদবপুরের মতো জটিল এলাকাকে ধীরে ধীরে দেশপ্রেম ও ‘রাষ্ট্রবাদের লাইনে’ ফিরিয়ে আনছেন শর্বরী বোন। তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এখন শর্বরীদিকে দেখে সত্যিই ভয় পাচ্ছে।”

উল্লেখ্য, কুঁদঘাটের ওই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া চক্রবর্তীও। তৃণমূলের এককালের দুঁদে ও প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাসকে হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে হারিয়ে বিধানসভায় পৌঁছান তিনি। পাপিয়া চক্রবর্তীকে নিজেদের জনপ্রতিনিধি ও বিধায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য এদিনের মঞ্চ থেকে টালিগঞ্জের সাধারণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সবমিলিয়ে আগামী পুরভোটের আগে এই সরকারি মঞ্চ থেকেই শাসক দল বিরোধী শিবিরকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে দিল।

Related Articles