কলকাতা

‘ভয়ের রাজনীতি ভেঙেছে’—রেজিনগরের জয়ের পর বাম-তৃণমূলকে কড়া তোপ শুভেন্দুর

সংখ্যালঘু ভোটারদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর উপনির্বাচনেও জয়ের ধারা বজায় রাখল বিজেপি। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও বড় ব্যবধানে জয় পেল শাসকদল। ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। ফল প্রকাশের পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রত্যাশিত বলেই মনে করছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সেখানে হাসিরানি রথ এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু রেজিনগরের ফল বিজেপির কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই কেন্দ্র এতদিন গেরুয়া শিবিরের নাগালের বাইরে ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর থেকে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে বিজেপির কাছে হারতে হল।

ফল প্রকাশের পর শুভেন্দুর দাবি, রেজিনগরে ধর্মীয় বিভাজনের অঙ্ক ভেঙে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভোট পেয়েছে বিজেপি। তাঁর কথায়, “সবাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। রেজিনগরে ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু পরিবারের দিদি-বোনরা ভোট দিয়েছেন। ৭০ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট সংখ্যালঘু ভাইবোনদের কাছ থেকেই পেয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এতদিন বিজেপিকে নিয়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় তৈরি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে বা ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে। কিন্তু গত পাঁচ মাসে মানুষ বুঝেছেন, সেই প্রচার সত্য নয়। তাঁর মতে, সেই কারণেই এবার সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন।

শুভেন্দু বলেন, “আমি ৬ অক্টোবরকে ‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ বলেছিলাম। সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা সেই ডাকে সাড়া দিয়েছেন। আমি খুশি।” হুমায়ুন কবীরকেও এদিন কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, হুমায়ুনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশই ভালোভাবে নেননি। শুভেন্দুর কথায়, “সংখ্যালঘুরা ভোট দিয়েছেন, কারণ তাঁরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চান।” রেজিনগরের উন্নয়ন নিয়েও একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেজিনগর কলেজ, নারকেলবাড়ি ব্রিজ, স্থানীয় হাসপাতালকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করা, নতুন শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা বলেন তিনি। দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে এলাকায় আমুলের কারখানা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান।

Related Articles