দেশ

“ভারতীয়রা প্রাণ কাড়ে না, প্রাণ বাঁচায়!”, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীর পাইলটকে কুর্নিশ মোদির

রক্তাক্ত শরীরেও বাঁচালেন শত শত প্রাণ! হিরো পাইলট স্মিতকে ভিডিও কল প্রধানমন্ত্রী মোদির, দিলেন ঐতিহাসিক বার্তা!

Truth of Bengal: নিজের জীবন বিপন্ন, অথচ শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে রক্ষা করলেন ফ্লাইদুবাই বিমানের শতাধিক যাত্রীর প্রাণ। ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও হাইজ্যাকিংয়ের কালো ছায়া টপকে এক অলৌকিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন গুজরাটের ভূমিপুত্র, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত। শুক্রবার সেখান থেকেই তাঁর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আহত স্মিতের সঙ্গে কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন মন্তব্য করে বলেন, “ভারতীয়রা কখনও অন্যের প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং নিজের সর্বস্ব দিয়ে জীবন রক্ষা করে। স্মিত আবারও বিশ্বমঞ্চে ভারতীয়দের সেই মহান সংস্কৃতি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।” কঠিন পরিস্থিতিতেও অসীম ধৈর্য্য ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় স্মিতের বীরত্বে আজ গোটা দেশ গর্বিত বলে জানান মোদি।

স্মিতের মা আগেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে, ছোটবেলা থেকেই গীতাপাঠ ও শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষার সংস্কার দিয়ে তিনি ছেলেকে বড় করেছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী স্মিতকে বলেন, “আপনার মধ্যে গীতার মহান আদর্শ রয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি সেই সংস্কৃতি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। আগামী দিনে পুরো বিশ্ব ভারতীয় পাইলটদের কোন চোখে দেখবে, আপনার এই সাহসিকতা তার দিশা নির্ধারণ করে দিল।”

বিশ্লেষকদের মতে, বিমানটি ক্র্যাশ করলে বা হাইজ্যাক হলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সম্মান চরম সংকটে পড়তে পারত। কিন্তু স্মিতের এই অভাবনীয় পদক্ষেপে ভারতীয় পাইলটদের মাথা উঁচু হয়ে গেল।

বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় বিশ্বরাজনীতি এবং পাক-মদতপুষ্ট সন্ত্রাসের আবহে মোদির এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরাসরি কোনও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ না তুললেও মোদির এই বক্তব্যে ছিল এক গভীর বার্তা, যুদ্ধে লিপ্ত বা সন্ত্রাসবাদী দেশকে মদত প্রদানকারী রাষ্ট্রগুলোর মতো ভারত ধ্বংসলীলা চায় না, বরং মানবতা ও জীবন রক্ষা করাই ভারতের মূল ধর্ম।

Related Articles