ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত মামলায় স্বস্তি! মহুয়া মৈত্রের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল হাই কোর্ট
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়
Truth of Bengal: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে দেওয়া রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। তবে রক্ষাকবচ থাকলেও তদন্ত বন্ধ থাকবে না। তদন্তে পুলিশ-প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে সাংসদকে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। সেখানেই আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। মহুয়া মৈত্রকেও তদন্তের প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মহুয়া মৈত্রের একটি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, ওই লাইভে তাঁর কিছু মন্তব্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। সেই অভিযোগে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিজেপির করিমপুর মণ্ডল-৪-এর সাধারণ সম্পাদক হীরক ভট্টাচার্য। পরে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় এরপর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। গত জুলাইয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ওই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ২৯ জানুয়ারি করা হল।
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে ডিম ছোড়ার ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর দাবি ছিল, নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজের সংসদীয় এলাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই মামলায় এর আগেই তাঁর নিরাপত্তায় দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার সেই নিরাপত্তা আপাতত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মহুয়ার উপর ডিম ছোড়ার ঘটনা সংক্রান্ত মামলার শুনানি থেকে এদিন সরে দাঁড়ান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কারণ, একই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একাধিক জনস্বার্থ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এই ধরনের সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি এখন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চেই শোনা হবে। ফলে একদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলায় আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত রক্ষাকবচ বজায় থাকছে মহুয়া মৈত্রের, অন্যদিকে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও আপাতত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।






