কলকাতা

৬ মাসের শিশুর জীবন বাঁচাতে ১৭ কোটির ইনজেকশন! জনতার দরবারে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন জিন থেরাপি

Truth of Bengal: মাত্র ৬ মাস বয়স। অথচ জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই ধরা পড়েছে বিরল ও জটিল স্নায়ুরোগ স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি বা এসএমএ টাইপ-১। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন জিন থেরাপি। সেই চিকিৎসার জন্য আমেরিকা থেকে আনতে হবে বিশেষ ইনজেকশন, যার দাম প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বিপুল এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয় পরিবারের পক্ষে। শেষ আশায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হলেন শিশুটির বাবা-মা।বেলঘরিয়ার বাসিন্দা ওই দম্পতির ৬ মাসের শিশুপুত্র পিয়ল। বয়স অনুযায়ী তার ঘাড় এখনও শক্ত হয়নি। সমবয়সি অন্য শিশুদের মতো হাত-পা নাড়াচাড়া করতেও পারে না সে। পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিন মাস বয়সে ধরা পড়ে, পিয়ল এসএমএ টাইপ-১ রোগে আক্রান্ত।

এই রোগে মেরুদণ্ডের মোটর নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার প্রভাবে হাত, পা ও ঘাড় নাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত পেশিগুলি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসক সংযুক্তা দে-র তত্ত্বাবধানে পিয়লের চিকিৎসা চলছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকরা তাঁদের জানিয়েছেন, জিন থেরাপির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ইনজেকশন আমেরিকা থেকে আনতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম প্রায় ১৭ কোটি টাকা। চিকিৎসার খরচের পরিমাণ জানার পর কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার। তারপরও সন্তানকে বাঁচাতে সমস্ত সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন পিয়লের বাবা-মা। সেই আশাতেই মঙ্গলবার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন। পরিবারের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং সরকারের তরফে যতটা সম্ভব সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিক গৌতম দাস নিজের এক মাসের বেতন শিশুটির চিকিৎসার জন্য দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

পিয়লের মা বলেন, “জটিল রোগে আক্রান্ত আমার ছেলে। চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছি। উনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।” শিশুটির বাবার আবেদন, “আমেরিকা থেকে ইনজেকশন আনতে হবে। প্রয়োজন ১৭ কোটি টাকা। সাধারণ পরিবারের পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা এগিয়ে এসে সাহায্য করলে আমরা আমাদের সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারব।” এখন পরিবারের একটাই আশা—সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি পাশে দাঁড়ান, তবে হয়তো পিয়লের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হবে।

Related Articles