রাজ্যের খবর

“সব ধান কিনবে সরকার!” ফড়েরাজ খতম করার বার্তা দিয়ে ‘কৃষকবন্ধু’ মুখ্যমন্ত্রী

৪ লক্ষ কৃষকের জন্য ২৫-৩০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ ছাড়! প্রশাসনিক সভা থেকে রাজকীয় উপহার শুভেন্দুর

Truth of Bengal: শস্য-শ্যামলা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণভোমরা হল রাজ্যের মেহনতি কৃষককুল। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে আয়োজিত সরকারি প্রশাসনিক সভা থেকে সেই কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিদ্যুৎ ও পূর্ত দফতরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি কৃষিজীবী মানুষের জন্য একগুচ্ছ ঐতিহাসিক ও জনকল্যাণমুখী মেগা আর্থিক ছাড়ের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেগে আপ্লুত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পূর্ব বর্ধমানের মানুষ নতুন সরকারকে উজাড় করে সমর্থন দিয়েছেন, এবার আমাদের সরকারের দায়িত্ব হলো উন্নয়নকে উজাড় করে আপনাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।”

রাজ্যের শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমানের মঞ্চ থেকে কৃষকদের বিদ্যুতের বিলে বিরাট স্বস্তির ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে। এর ফলে বছরে একেকজন কৃষক প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরাসরি বিদ্যুৎ বিলে ছাড় পাবেন। রাজ্যের ৪ লক্ষেরও বেশি কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনতে রাজ্য সরকার বাড়তি ৩০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করছে।”

কৃষি কল্যাণ প্রকল্পগুলির পুনর্গঠন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “কেন্দ্রীয় পিএম কিষাণ সম্মাননিধি প্রকল্পে এতদিন কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পেতেন। আমরা দ্রুত প্রশাসনিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে সমস্ত বৈধ আবেদনকারীদের যুক্ত করেছি। এখন থেকে কেন্দ্র সরকারের ৬,০০০ টাকার সাথে রাজ্য সরকার আরও ৩,০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯,০০০ টাকা বার্ষিক সহায়তা দেবে।” একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। যাদের অল্প জমি রয়েছে তারা বার্ষিক ৪,০০০ টাকা এবং অধিক জমির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ৬,০০০ টাকা প্রদান করবে। পাশাপাশি ৫ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের ক্ষেত্রে সরকার প্রতি কুইন্টাল ধানের জন্য ২,৭০০ টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) সুনিশ্চিত করবে।

এদিনের জনসভা থেকে ধানের ব্যবসায় যুক্ত ‘মিডলম্যান’ তথা ফড়েদের বিরুদ্ধে অলআউট কড়া হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী। মেমারির মঞ্চ থেকে তিনি সাফ জানান, “কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল লুট করার জন্য কোনও ফড়ে, দালাল কিংবা রাইসমিলের মাফিয়ার দাদাগিরি আমরা বরদাস্ত করব না। কৃষকদের সমস্ত ধান স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি কিনে নেবে সরকার। এমনকি যে সমস্ত কৃষক ১০০ কুইন্টাল ধান সরাসরি সরকারি কেন্দ্রে দেবেন, তাঁদের ২০,০০ টাকা বিশেষ উৎসাহ ভাতাও প্রদান করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত গোটা বর্ধমানের কৃষক সমাজ।

Related Articles