কলকাতারাজ্যের খবর

দুর্গা প্রতিমার কপালে কেন থাকে মাকড়সার চিহ্ন? আসল রহস্য জানেন?

একটি চিহ্ন দেখা যায় দুর্গার কপালে, টিপের ঠিক নীচে—একটি ছোট্ট মাকড়সা

Truth of Bengal: পুজো আসছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন মণ্ডপ, আলো আর প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। দুর্গাপুজোর পাঁচ দিন বাঙালি মেতে উঠবে দেবী আরাধনায়। ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিটি দিনেরই রয়েছে আলাদা রীতি, আলাদা আবেগ। কিন্তু প্রতিমার দিকে যতই তাকাই, এমন কিছু সূক্ষ্ম চিহ্ন থাকে যেগুলির অর্থ অনেকেই জানেন না। তেমনই একটি চিহ্ন দেখা যায় দুর্গার কপালে, টিপের ঠিক নীচে—একটি ছোট্ট মাকড়সা। বিশেষ করে ‘ডাকের সাজ’-এর প্রতিমায় এই মাকড়সার মোটিফটি বেশ পরিচিত। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, নিছক অলঙ্করণের অংশ। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক প্রতীক।

মাকড়সা নিজের শরীর থেকেই সুতো বের করে জাল তৈরি করে। সেই জাল সে চারদিকে বিস্তার করে, অথচ নিজে তাতে আটকে পড়ে না। হিন্দু দর্শনে এই ভাবনার সঙ্গে ‘মহামায়া’র তুলনা করা হয়। দেবী দুর্গাকে মহাশক্তি ও মহামায়ার রূপ হিসেবে দেখা হয়। তাঁর সৃষ্ট জগৎ, সম্পর্ক, আকর্ষণ, মোহ—সবই এক বিশাল ‘মায়াজাল’-এর মতো। মানুষ সেই জালে জড়িয়ে পড়ে সুখ-দুঃখ, কামনা-বাসনা, লোভ-মোহের মধ্যে। কিন্তু যিনি মায়ার স্রষ্টা, সেই দেবী নিজে তার দ্বারা আবদ্ধ নন। ঠিক যেমন মাকড়সা জাল তৈরি করলেও সেই জাল তাকে বেঁধে রাখতে পারে না। এই কারণেই দুর্গার কপালের নীচে মাকড়সার প্রতীককে অনেকেই দেবীর ‘মহামায়া’ শক্তির চিহ্ন বলে ব্যাখ্যা করেন।

মাকড়সার জাল আবার জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীকও। জাল দেখতে সূক্ষ্ম, নরম ও ভঙ্গুর—তবু আশ্চর্যভাবে সুসংগঠিত। ঠিক মানুষের জীবনও তেমনই। একদিকে সম্পর্ক, দায়িত্ব, আকাঙ্ক্ষা ও আবেগের জটিলতা, অন্যদিকে সেই বন্ধন থেকে আত্মিক মুক্তির সন্ধান। তাই দুর্গাপ্রতিমার এই ছোট্ট মাকড়সা আসলে শুধু সাজসজ্জা নয়। তার মধ্যে লুকিয়ে আছে এক বড় দর্শন—মায়ার মধ্যে থেকেও মায়াকে নিয়ন্ত্রণ করা, বন্ধনের মধ্যে থেকেও নিজেকে হারিয়ে না ফেলা। এবার প্যান্ডেলে গিয়ে দুর্গার মুখের দিকে তাকালে তাই শুধু ত্রিনয়ন বা সিঁদুর নয়, নজর রাখুন টিপের নীচেও। ছোট্ট সেই মাকড়সাটি হয়তো আপনাকে দেবী দুর্গার আরেকটি গভীর রূপ চিনিয়ে দেবে।