কলকাতা

তোলাবাজি মামলায় সিআইডির মুখোমুখি! আদালতের নির্দেশে ভবানী ভবনে হাজির কীর্তি আজাদ

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়েই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান তিনি

Truth of Bengal: তোলাবাজির অভিযোগে এবার সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়েই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান তিনি। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিলেও তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন সিআইডি দপ্তরে হাজির হন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা সাংসদ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কীর্তি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। অভিযোগে যে দিনের ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেদিন তিনি দুর্গাপুরেই ছিলেন না। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ও বিমানযাত্রার তথ্যও তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংসদ। আদালতেও সেই সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছিল।

মামলার সূত্রপাত এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ থেকে। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ সালের ২১ মে তাঁকে দুর্গাপুরে কীর্তি আজাদের বাংলোয় ডাকা হয়েছিল। সেখানে সাংসদের এক সহযোগী তাঁর কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে রান্নার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই কথোপকথনের একটি অডিয়ো রেকর্ডিং রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ব্যবসায়ী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কীর্তি আজাদ-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি এবং সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।

গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কীর্তি। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, কথিত ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পরে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগ থাকলেও বাস্তবে সেই অর্থ দেওয়া হয়েছিল—এমন কোনও তথ্য নেই বলেও আদালতে দাবি করা হয়। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট অডিয়ো রেকর্ডিংও শোনেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। প্রাথমিক পর্যায়ে কীর্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের মতো যথেষ্ট উপাদান পাওয়া যাচ্ছে না বলে পর্যবেক্ষণ করে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দেয়। তবে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে ২২ সেপ্টেম্বর ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে আগাম নোটিস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে আদালত।

Related Articles