পেট্রোল পাম্পে ২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই বন্ধের হুমকি ডিলারদের
বর্তমানে জ্বালানি ব্যবসার খরচ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
Truth of Bengal: জ্বালানি বিক্রির ওপর প্রস্তাবিত নতুন ফি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পাম্প মালিকদের মধ্যে। ১৫ অক্টোবর থেকে দেশের বহু পেট্রোল পাম্পে ২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্ট বন্ধ হতে পারে। পেট্রোল পাম্প ডিলাররা ইউপিআই লেনদেনের ওপর ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এই নতুন ফি চালু হলে পাম্প মালিকদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগবে। সেই কারণেই তাঁরা এই নতুন কর পুরোপুরি বাতিল করার দাবি তুলেছেন। মধ্যপ্রদেশের ডিলাররা প্রথম এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পরে দেশের অন্যান্য প্রান্তের ব্যবসায়ী সমিতিও এই দাবিতে একজোট হয়। অল ইন্ডিয়া পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন পাম্পে ইউপিআই খরচে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি ব্যবসার খরচ আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাম্প মালিকদের দাবি, পাম্প চালনার আনুষঙ্গিক খরচ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তেল কোম্পানিগুলি তাদের কমিশন বাড়ায়নি। এই অবস্থায় ০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ দেওয়া তাঁদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব। ডিলাররা বলছেন, বাড়তি এই ফি দিতে হলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ১৫ অক্টোবরের পর থেকে ২০০০ টাকার বেশি টাকা ফোনে দিতে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। গ্রাহকদের হয়তো আবার নগদ টাকা ব্যবহার করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত গাড়িতে বেশি টাকার তেল ভরে থাকেন, তাঁরা বিপদে পড়বেন।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ক্যাট এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, পেট্রোল পাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা ডিজিটাল ভারতের গতি থামিয়ে দেবে। মানুষ এখন নগদ টাকা সঙ্গে না রেখে সব জায়গায় ফোন পেমেন্ট ব্যবহার করেন। এই সুবিধা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ নাগরিকরা বিপদে পড়বেন। একই সঙ্গে পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের জ্বালানি বিক্রেতারাও রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে এই ফি প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে না গেলে আগামী মাস থেকে সারা দেশে পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষ এখন সরকারের হস্তক্ষেপের আশায় দিন গুনছেন।


