বারবিকিউয়ের আগুনে দাউদাউ জ্বলছে নববধূ! সিটঙে হানিমুন করতে গিয়ে হাড়হিম করা বিপর্যয়
ক্যান থেকে তরল ঢালতেই ধেয়ে এল তীব্র আগুনের ফুলকি! সিটঙে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন গৃহবধূ নিকিতা!
বিশ্বদীপ নন্দী, দার্জিলিং: পাহাড়ি নির্জনতায় একান্তে রোমান্টিক মুহূর্ত কাটানোর স্বপ্ন পরিণত হল এক ভয়ংকর দুর্ঘটনায়! উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কালিম্পংয়ের সিটঙে হানিমুন করতে গিয়ে বারবিকিউয়ের আগুনে মারাত্মকভাবে ঝলসে গেলেন এক তরুণী নববধূ। এই মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন ওই গৃহবধূ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’মাস আগে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার বাসিন্দা সমীর দাসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিকিতা দাস। বিয়ের কিছুদিন পর নবদম্পতি কালিম্পং জেলার সিটঙের একটি মনোরম পাহাড়ি হোমস্টেতে হানিমুনের উদ্দেশ্যে ঘুরতে আসেন। পাহাড়ি ঠাণ্ডায় একান্তে সময় কাটানোর পাশাপাশি হোমস্টে প্রাঙ্গণেই বারবিকিউ উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে টেবিল ঘিরে নিকিতা ও সমীর একদম বারবিকিউর সামনের চেয়ারেই বসেছিলেন।
সামনে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বারবিকিউ চলাকালীন হঠাৎই একজন ব্যক্তি নিজের চেয়ার থেকে উঠে একটি প্লাস্টিক বা ধাতব ক্যান থেকে আগুনের ওপর তরল জ্বালানি বা কেমিক্যাল জাতীয় কিছু ঢালতে থাকেন। তরল পদার্থটি আগুনে স্পর্শ করতেই নিমেষের মধ্যে দাউদাউ করে বিশাল আগুনের শিখা ও তীব্র ফুলকি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত সেই উত্তপ্ত আগুনের ফুলকি সোজা এসে পড়ে একেবারে কাছে বসে থাকা নববধূ নিকিতা দাসের গায়ে। চোখের পলকে নিকিতার জামাকাপড়ে আগুন ধরে যায় এবং তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্ত্রীকে আগুনের শিখায় দাউদাউ করে জ্বলতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন স্বামী সমীর দাস। তিনি আকুল হয়ে হোটেলের কর্মী ও উপস্থিত অন্যদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে যে ব্যক্তি ক্যান থেকে তরল ঢেলেছিলেন, তিনি তড়িঘড়ি নিজের টি-শার্ট খুলে তা দিয়ে নিকিতার গায়ের আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এই দুর্ঘটনায় পুরো হোমস্টে চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে মারাত্মক জখম অবস্থায় নিকিতাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শরীরের বহু অংশ ঝলসে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যার ফলে চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। ঘটনার পর পাহাড়ি অঞ্চলের হোমস্টেগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা (Fire Extinguisher) বা সুরক্ষাবিধি ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও পর্যটন মহলে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।




