কলকাতা

উপনির্বাচনের আগেই প্রতীকের ফয়সালা? বৃহস্পতিবার কমিশনে মুখোমুখি দুই তৃণমূল

এর আগে শনিবারও দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছিল কমিশন।

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে টানাপোড়েন আরও এক ধাপ এগোল। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের বক্তব্য ফের শুনছে নির্বাচন কমিশন। তবে শুনানি শেষেই চূড়ান্ত বা অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে শনিবারও দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছিল কমিশন। সেই শুনানির পর ঋতব্রত শিবিরের কাছ থেকে আরও কিছু নথি চাওয়া হয়। দুই পক্ষকেই নিজেদের দাবির পক্ষে চূড়ান্ত বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলের নাম এবং সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরই নিজেদের তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী পক্ষ হিসেবে দাবি করেছে। কমিশন অবশ্য এখনও কোনও পক্ষের দাবিকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে প্রতীক ব্যবহার নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই শিবিরই দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে এবং উভয় পক্ষই তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের উপর দাবি জানিয়েছে। উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ৬ অক্টোবর।

কমিশনের সামনে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি পথ খোলা রয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা চলছে। কমিশন কোনও একটি শিবিরকে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দিতে পারে, আবার আরও নথি চেয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিতও রাখতে পারে। অন্তর্বর্তী পর্যায়ে প্রতীক ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচিত হয়েছে। তবে এর কোনওটিই এখনও নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সিদ্ধান্ত নয়। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকেই নজর দুই শিবিরের। কমিশন যদি অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত কোনও নির্দেশ দেয়, তা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে দুই পক্ষের প্রতীক ব্যবহারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আপাতত ‘জোড়াফুল কার’—সেই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাতেই।

Related Articles