‘এই চার্জশিটে কিছুই নেই, ২ বছর ধরে এটাই দেখছি!’ আর জি কর মামলায় ফের বিস্ফোরক অভয়ার মা
বর্তমানে পানিহাটির বিধায়ক হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তাঁর হতাশা এখনও কাটেনি
Truth of Bengal: আর জি কর কাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে দু’বছরেরও বেশি সময়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। কিন্তু সেই রায়েই তদন্ত শেষ বলে মানতে নারাজ নির্যাতিতার পরিবার। মেয়ের জন্য পূর্ণ বিচার চেয়ে রাজনীতির ময়দানেও নেমেছেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। বর্তমানে পানিহাটির বিধায়ক হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তাঁর হতাশা এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে আর জি কর মামলার ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়েও সন্তুষ্ট নন অভয়ার মা। তাঁর বক্তব্য, গত দু’বছর ধরে তদন্তের নামে একই ধরনের তথ্যই সামনে আসছে, নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। যদিও নতুন করে গঠিত তদন্ত কমিটির উপর এখনও আশা রাখছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য। ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু শুরু থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের দাবি ছিল, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে পরিবার বারবার অভিযোগ করেছে, তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি এবং অন্য কারও ভূমিকা এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি। মেয়ের সুবিচারের দাবি সামনে রেখেই চলতি বছরের শুরুতে বিজেপিতে যোগ দেন অভয়ার মা। পরে তিনি পানিহাটি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। মঙ্গলবার আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিক্যাল এবং ফরেনসিক রিপোর্ট নতুন করে খতিয়ে দেখেছেন। যে শ্মশানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল, সেখানেও গিয়ে তদন্ত করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল। পরিবারের তরফে যে সমস্ত প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলিও যাচাই করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। তবে তদন্তের কিছু অংশ এখনও বাকি রয়েছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর রত্না দেবনাথ বলেন, “এই রিপোর্ট আমরা দু’বছর ধরে দেখছি। এতে নতুন কিছুই নেই। কিছুই হল না।” তাঁর দাবি, তদন্তের গতি আরও বাড়ানো দরকার এবং পরিবারের তোলা প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। তবে সমস্ত আশা ছেড়ে দিতে রাজি নন তিনি। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে নতুন করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।






