আটটি চেম্বার, রোগী পিছু ৮০০ টাকা ভিজিট! রোগী সেজে হানা দিয়ে ভুয়ো ডাক্তারকে ধরল পুলিশ
ক্যানসার রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছিনিমিনি! ডাক্তার সেজে কোটি টাকার কারবার চালানো বিশ্বরূপ গ্রেফতার
Truth of Bengal: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার অন্তর্গত ঘাসিয়ারা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযান চালিয়ে এক ভিআইপি ভুয়ো ক্যানসার বিশেষজ্ঞকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম বিশ্বরূপ আচার্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে উচ্চশিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক খ্যাতাসম্পন্ন অনকোলজিস্ট (Oncologist) চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমবিবিএস (MBBS), এফআরসিএস (FRCS)-এর মতো একাধিক স্বনামধন্য ও ভুয়ো ডিগ্রি প্যাডে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক চমকে ওঠার মতো তথ্য। অভিযুক্তের কোনও বৈধ মেডিক্যাল ডিগ্রি না থাকলেও শহর ও উপকণ্ঠ এলাকা মিলিয়ে মোট আট-আটটি চেম্বার ছিল! প্রতিটি চেম্বারে রোগী দেখার জন্য তিনি ভিজিট হিসেবে হাঁকাতেন ৮০০ টাকা। সম্প্রতি সোনারপুরের ঘাসিয়ারা এলাকায় একটি বহুতল বাড়ির ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নিজের নতুন চেম্বার খোলেন বিশ্বরূপ। তবে তাঁর অদ্ভুত গতিবিধি এবং রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবহারে প্রথম থেকেই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল বাড়ির মালিকের মনে। আর দেরি না করে পুরো বিষয়টি সোনারপুর থানায় জানিয়ে পুলিশি নজরদারির দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ পেতেই মাঠে নামে সোনারপুর থানার চতুর পুলিশ বাহিনী। জাল ছিটায়ে ছদ্মবেশে এক পুলিশ কর্মী স্রেফ সাধারণ রোগী সেজে ঢুকে পড়েন বিশ্বরূপ আচার্যের ওই নতুন চেম্বারে। প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ডিগ্রির কাগজপত্র দেখতে চাইতেই বেরিয়ে আসে মারাত্মক সব অসঙ্গতি। এর পরেই ঘেরাও করে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা যাচ্ছে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ভুয়ো চিকিৎসকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই বিশ্বরূপ। রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য বড় বড় আন্তর্জাতিক ডিগ্রির নাম ব্যবহার করতেন তিনি। ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। সে এতদিন ধরে কীভাবে অবাধে ডাক্তারি চালিয়ে যাচ্ছিল, তার পেছনে কোনও আন্তর্জাতিক ভুয়ো চক্রের হাত রয়েছে কি না এবং জাল নথিপত্র ও ডিগ্রিগুলি সে কোথা থেকে তৈরি করিয়েছিল, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।





