কলকাতা

রেস্তোরাঁর পর এবার ওষুধের দোকানে হানা! বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিংয়ে যৌথ অভিযানে ড্রাগ কন্ট্রোল-ইবি

ব্যাচ নম্বর খতিয়ে দেখে বাজেয়াপ্ত একের পর এক ওষুধ! বড়বাজারে ম্যারাথন অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ

Truth of Bengal: দুর্গাপুজো আগে শহরজুড়ে ভেজাল বিরোধী অভিযানে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। নিম্নমানের ও পচা খাবার বিক্রির অভিযোগে কলকাতার ৪০টি হেভিওয়েট রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ভেজাল ও জাল ওষুধের কারবার রুখতে বড়বাজারে মেগা অভিযান চালাল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল (State Drug Control) এবং কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB)। বুধবার সকাল থেকেই দুই সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা যৌথভাবে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ওষুধ বাজার, বড়বাজারের মেহতা বিল্ডিংয়ের একাধিক দোকানে আচমকা হানা দেন।

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মেহতা বিল্ডিংয়ের পাইকারি দোকানগুলিতে প্রবেশ করে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও ড্রাগ কন্ট্রোলের কর্তারা। দোকানগুলিতে রাখা জীবনদায়ী ওষুধের সমস্ত নথিপত্র, চালান ও রসিদ খতিয়ে দেখা হয়। প্রতিটি ওষুধের ওপর থাকা ব্যাচ নম্বর প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি, মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) বা নিষিদ্ধ কোনও ড্রাগ এবং নকল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা অতি সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। রাজ্যের আনাচকানাচে চিকিৎসালয় ও খুচরো ওষুধের দোকানে সিংহভাগ সাপ্লাই যায় এই মেহতা বিল্ডিং থেকেই। ফলে আন্তর্জাতিক বা রাজ্যভিত্তিক কোনও জাল ওষুধ চক্রের শেকড় এখানে ছড়িয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়।

উৎসবের মরসুমে শহরের নাগরিকদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বিগত এক সপ্তাহ ধরেই অ্যাকশন মোডে রয়েছে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা। সম্প্রতি খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহরের আনাচেকানাচে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। ডেকার্স লেনের স্টল থেকে শুরু করে আরসালান, করিমস বা শিমলা বিরিয়ানির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের রান্নাঘরেও তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও গুদামে ছত্রাক ধরা ছানা, আবার কোথাও বিপুল পরিমাণ বাসি-পচা মাংস উদ্ধারের পর দ্রুত পদক্ষেপ করে কলকাতা পুরসভা ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে।

অন্যদিকে, শুধু খাবার বা ওষুধই নয়, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একই দিনে শহর ও শহরতলির একের পর এক নামী শপিং মল ও বিপণিবিতানে যৌথভাবে হানা দেয় পুলিশ ও দমকল দফতর। শপিং মলগুলিতে জরুরি অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা সচল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মহড়া চালানো হয়। পুজোর মুখে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের এই জিরো-টলারেন্স নীতিতে তোলপাড় তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।