জলের ড্রামে মরা পাখি! সেই জলেই রান্না মিড ডে মিল, পান করছে পড়ুয়ারা, ক্যানিংয়ের স্কুলে চাঞ্চল্য
দুর্গন্ধের কথা বললেও কান দেননি শিক্ষকরা! ড্রামের ভেতর পচা পাখি উদ্ধার হতেই ক্যানিংয়ে ধুন্ধুমার
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বেশ কিছুদিন ধরেই পানীয় জল খাওয়ার সময় অদ্ভুত পচা দুর্গন্ধ পাচ্ছিল খুদে পড়ুয়ারা। বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষাসূত্রে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কেউ কান দেননি বলে অভিযোগ। অবশেষে রহস্যের উন্মোচন হতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং সার্কেলের গলডহরা কুসুম মনি এফপি স্কুলে। সোমবার স্কুলের পানীয় জলের প্রধান ড্রামটি খুলতেই বেরিয়ে এল পচা-গলা একটি মরা পাখি, আর সেই জলজুড়ে কিলবিল করছে ক্ষতিকারক পোকা!
চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই বিষাক্ত ও দূষিত জল দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের রান্না চলছিল। শুধু তাই নয়, কচি-কাঁচারা তৃষ্ণা মেটাতে ওই ড্রামের জলই দিনের পর দিন পান করে আসছিল। ড্রামে পড়ে থাকা পাখিটি পচে গিয়ে পোকায় রূপ নেওয়ায় এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। এই অমানবিক ও আশঙ্কাজনক ঘটনার কথা জানাজানি হতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু অভিভাবক স্কুলে চত্বরে জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে ইতিপূর্বে বহুবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হলেও তারা বিষয়টি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়নি। প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। স্কুলে তিন-চার জন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও তাঁদের মধ্যে একজন প্যারা টিচার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার কারণে নিয়মিত স্কুলে আসেন না। অভিযোগ, তাঁর পরিবর্তে স্কুলের যাবতীয় নথিপত্র ও দেখভালের দায়িত্ব সামলান তাঁর স্ত্রী তথা ওই স্কুলেরই প্যারা টিচার কাকুলি কবিরাজ মণ্ডল।
ড্রামের ভেতর মরা পাখি ভেসে ওঠার ফলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করে নিলেও ক্যামেরার সামনে কোনও বক্তব্য রাখতে চাননি প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রী কাকলি কবিরাজ মণ্ডল। কোমলমতি পড়ুয়াদের জীবন নিয়ে এভাবে খেলা করায় চরম ক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল। দোষী শিক্ষক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।





