দেশ

মার্কশিটে আর ‘ফেল’ নয়, দশম-দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত বিহার সরকারের

বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও পড়ুয়ার পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

Truth of Bengal: পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও নম্বরপত্রে আর লেখা থাকবে না ‘ফেল’। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতে না পারা পড়ুয়াদের জন্য এমনই নতুন উদ্যোগের কথা জানাল বিহার সরকার। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, কোনও পড়ুয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাঁর নম্বরপত্রে ‘ফেল’-এর পরিবর্তে লেখা হবে ‘দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য’। অর্থাৎ, পরীক্ষায় সাফল্য না পেলেও সংশ্লিষ্ট পড়ুয়া দক্ষতা উন্নয়ন বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। তবে এর অর্থ পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়া নয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিয়ম আগের মতোই থাকবে। শুধু অকৃতকার্য পড়ুয়াদের নম্বরপত্রে ব্যবহৃত ‘ফেল’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এ নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।

বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও পড়ুয়ার পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেই তাঁর প্রতিভা বা যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। ভবিষ্যতে সেই পড়ুয়ার প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই নম্বরপত্র থেকে ‘ফেল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অকৃতকার্য পড়ুয়াদের জন্য বিকল্প পথও খোলা রাখা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা বিহার মুক্ত বিদ্যালয় শিক্ষা ও পরীক্ষা পর্ষদের অধীনে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না এলেও তাঁদের শিক্ষাজীবন বা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগ থেমে থাকবে না।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাধ্যমিকের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় বসতে চলা পড়ুয়াদের পরীক্ষার আগে এক মাস বিশেষ ক্লাস করানো হবে। অতিরিক্ত প্রস্তুতির মাধ্যমে তাঁদের পরীক্ষায় সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এই উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শুধু পরীক্ষার ফল বা পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ নয়, শিক্ষকদের সহায়তার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে বিহার সরকার।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সহায়তা করার জন্য একটি বিশেষ তৎপরতা কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য একটি শিক্ষাসহায়ক মুঠোফোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা ২৪ ঘণ্টা শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য নিতে পারবে। এ ছাড়াও শিক্ষকদের পছন্দ অনুযায়ী বদলির প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী পর্যায়ে শূন্যপদের সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ‘ফেল’ শব্দটি নম্বরপত্র থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি অকৃতকার্য পড়ুয়াদের সামনে বিকল্প শিক্ষার পথ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিহার সরকারের।

Related Articles