অজিদের সঙ্গে ড্রয়ে ভাঙল ভারতীয় মেয়েদের পদকের স্বপ্ন, কান্নায় ভেঙে পড়লেন সবিতারা
সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিলেন দলের অভিজ্ঞ সদস্যরা।
Truth of Bengal: একটা গোলের জন্য নয়, বরং একটা সুযোগের জন্য কাঁদল ভারতীয় মহিলা হকি দল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। পদক থেকে দূরত্ব ছিল সামান্য, কিন্তু সেই সামান্য ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল বিশাল। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় খেলোয়াড়দের মুখে তাই ছিল শুধু বিষণ্ণতা।
সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিলেন দলের অভিজ্ঞ সদস্যরা। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামা সবিতা পুনিয়া কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল হারানোর যন্ত্রণা। গোলরক্ষক বিচ্ছু দেবীর চোখেও জল। আর প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইশিকা চৌধুরীর কাছে ঘটনাটি যেন বিশ্বাস করার মতো ছিল না। এতটা কাছে এসেও যে শেষ চারে ওঠা হল না, সেই আঘাত সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল পুরো দলের পক্ষেই।
ভারতের ১১ জন খেলোয়াড় এবার প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমেছিলেন। তাঁদের জন্য তাই প্রতিটি ম্যাচ ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। সেই তরুণীদের অনেকেই ম্যাচের পর ভেঙে পড়েন। দলের সিনিয়র খেলোয়াড় ও কর্মীরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগান। কোচ শোর্ড মারাইনের মুখেও তখন হতাশার ছাপ। সবাই জানতেন, এই দলটি ইতিহাস বদলানোর মতো জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গোল না হলেও লড়াইয়ে কোনও ঘাটতি রাখেনি ভারত। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শুধু লড়াই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হয় নিখুঁত হিসাব, সুযোগ কাজে লাগানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ু শক্ত রাখার। ভারত সেই জায়গাতেই সামান্য পিছিয়ে পড়েছে। এর আগে নেদারল্যান্ডসের কাছে হার সেমিফাইনালের সমীকরণ কঠিন করে দিয়েছিল। শেষ ম্যাচে তাই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে পদক এখনও অধরা। ১৯৭৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার পর আর কোনও আসরে পদকের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া হয়নি। এবার সেই অপেক্ষা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গোলের ব্যবধানের হিসাব শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে গেল।
অধিনায়ক সালিমা টেটে জানেন, এই ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর কথায়, দল অনেক পরিশ্রম করেছে এবং ভালও খেলেছে। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করার যন্ত্রণা থেকেই শিক্ষা নিতে হবে।
২৭ আগস্ট পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামবে ভারত। সেটি হয়তো পদকের ম্যাচ নয়, কিন্তু এই দলের জন্য লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। চোখের জল মুছে আবার মাঠে নামাটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কারণ ইতিহাস এখনও অপেক্ষা করছে— ভারতীয় মহিলা হকির প্রথম বিশ্বকাপ পদকের জন্য।


