রাজ্যের খবর

বিজেপির শাসনে দুর্গাপুজোয় বাধা? মালদায় আয়োজন ঘিরে হাতাহাতি-তাণ্ডব, কাঠগড়ায় বিজেপি কাউন্সিলর

"পুজো করলে বাড়ি গিয়ে দেখে নেব!", বিজেপি কাউন্সিলরের হুমকিতে তোলপাড় কৃষ্ণপল্লী!

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদা: বিজেপির শাসনেও কি দুর্গাপুজো করতে বাধা? বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা মালদায়। পুজো করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় সরাসরি কাঠগড়ায় ইংলিশ বাজার পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর এবং তাঁর দলবল। ঘটনাটি মালদার কৃষ্ণপল্লীর গোসাই মাঠ এলাকার।

স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, রবিবার রাতে এলাকায় দুর্গাপুজো আয়োজন নিয়ে একটি বৈঠক চলছিল। সেই সময় আচমকাই সেখানে হাজির হন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ, কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই বৈঠকে থাকা মহিলাদের সঙ্গে বচসা শুরু হয় এবং পরে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এমনকী, পুজো করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইতিমধ্যেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে কাউন্সিলরকে হাতাহাতির ঘটনা স্বীকার করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি অভিযোগকারী মহিলাদের। মহিলাদের প্রশ্ন, তাঁরা হিন্দু, যাঁরা পুজোয় বাধা দিচ্ছেন তাঁরাও হিন্দু। তাহলে দুর্গাপুজোয় আপত্তি কোথায়? কেনই বা পুজো করতে দেওয়া হবে না?

ঘটনার পর ইংলিশ বাজার থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলেও দাবি মহিলাদের। বিষয়টি তারা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণা নাথ দাবি করেন, “যারা অভিযোগ করছেন সেটা পুরো মিথ্যে অভিযোগ। এই ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছয় থেকে সাতটি পূজো হয়। আমার আমলেই বাপুজি কলোনি-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন পুজো শুরু হয়েছে। সবাইকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু এখানে বিষয়টি অন্য। এখানে কিছু সিপিএমের লোক সমাজকে বিভক্ত করে শাসন চালু করতে চাইছে। এখানে ৫০ মিটারের মধ্যে শতাধিক প্রাচীন একটি পুজো হয়। এই নবকৃষ্ণ পল্লীর মানুষজনই আমাকে লিখিত আকারে জানিয়েছিল এখানে আরও একটি পুজো হলে এই পুজোর জৌলুস কমে যাবে। সেই সঙ্গে এই ছোট জায়গায় আবার পুজো হলে সাধারণ নাগরিকের উপর চাঁদার বোঝা বাড়বে, নাগরিকরা আমাকে লিখিত আকারে সেটাও জানিয়েছিল। এটা আমার বিরুদ্ধে সিপিএম চক্রান্ত করছে।”

Related Articles