দেশ

‘জয় জয় মোদি’ রব তুলে পুজো! দিল্লি প্রেস ক্লাবে রামরূপী প্রধানমন্ত্রীর ব্যানারে আরতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক

রাতারাতি ভাইরাল ভিডিও! দিল্লির প্রেস ক্লাবে ‘ভগবান শ্রী নরেন্দ্র মোদি চালিশা’ ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি!

Truth of Bengal: রাজনীতির ময়দানে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এবার তাঁকে সরাসরি দেবতার আসনে বসিয়ে আরতি ও পুজো করার এক অভূতপূর্ব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দিল্লিতে অবস্থিত প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় (Delhi Press Club) ভগবান রামচন্দ্রের আদলে তৈরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) একটি বিশালাকার ব্যানারের সামনে রীতিমতো প্রদীপ জ্বালিয়ে চলল আরতি। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে ‘হর হর মোদি’ এবং ‘জয় জয় মোদি’ জয়ধ্বনিতে।

সম্প্রতি এই ঘটনাটির একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে শ্রীরামের অবতার হিসেবে উপস্থাপন করে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করা হয়েছে। যে মঞ্চে ঘটনাটি ঘটে, সেখানকার মূল ব্যানারে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল, ‘ভগবান শ্রী নরেন্দ্র মোদি চালিশা’। তবে ঠিক কারা বা কোন বিশেষ সংগঠন এই বিতর্কিত কর্মসূচির আয়োজন করেছিল, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সামাজিক মাধ্যমে ও রাজনৈতিক মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

বিতর্ক চরমে উঠতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা প্রকাশ করে তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ক্লাবের তরফে জানানো হয়, “প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার কোনো যোগাযোগ নেই এবং এটি ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত নয়।”

প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও যোগ করে জানায়, একটি বাহ্যিক সংগঠনকে সাংবাদিক সম্মেলন করার উদ্দেশ্যেই ক্লাব গৃহ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়োজকরা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রেস ক্লাবের নিয়মকানুন এবং ব্যবহারের শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ক্লাবের কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং মূল অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই বন্ধ করে দেন। এই ঘটনাটি কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি সংবাদ মাধ্যমেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Related Articles