দেশ

জেন জি’র মন বুঝতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রীদের পাঠাবে মোদি সরকার

পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যুবসমাজের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরবেন তাঁরা।

Truth of Bengal: যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে জেন জি-র বিক্ষোভের পর তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছতে আরও সক্রিয় হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ছাত্র-যুবদের বিভিন্ন সমস্যা, মতামত এবং ক্ষোভ সরাসরি জানতে এ বার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং যুবসমাজের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরবেন তাঁরা।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে প্রতিদিন একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। সেখানে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব-সহ একাধিক বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথাও পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হবে।

তবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য শুধু সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রচার নয়। যুবসমাজের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়াদের ভাবনা কী, তাঁদের প্রত্যাশাই বা কী—সেই বিষয়গুলিও সরাসরি জানতে চাইছে কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেই মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা হবে।

জেন জি-র কাছে পৌঁছতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গত কয়েক মাসে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিয়ো থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে যুবসমাজকে দেওয়া একাধিক বার্তা—সব ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এবার সেই প্রচেষ্টাকেই আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মন্ত্রীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

এই কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে। কোন মন্ত্রী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সেই পরিকল্পনাও তাঁরাই চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বিরোধীরাও ইতিমধ্যে সক্রিয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি বিভিন্ন শহরে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ নামে কর্মসূচি শুরু করেছেন। কংগ্রেসের পরিকল্পনা, আগামী দিনে দেশের প্রায় ৮০০টি ছোট-বড় শহরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও মতামত শোনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের পাল্টা কেন্দ্রীয় স্তরেও পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোর উদ্যোগ শুরু হল। ফলে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলি শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, দেশের রাজনৈতিক দলগুলির যুব-সমাজের মন জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

Related Articles