বন্যায় সব হারিয়েও থামেনি লড়াই, দিল্লিতে জাতীয় ক্যারাটেতে সোনা জয় অসমের জনমণির
প্রতিযোগিতায় তিনটি বাউটে নেমে তিনটিতেই জয় পেয়েছে সে।
Truth of Bengal: বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে ঘর। নষ্ট হয়েছে অনুশীলনের জায়গা। পরিবারের সঙ্গে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও থামেনি লড়াই। চোখে ছিল একটাই স্বপ্ন—এক দিন অলিম্পিকের মঞ্চে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। সেই স্বপ্নের পথেই আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল অসমের জোড়হাটের ১৭ বছরের ক্যারাটেকা জনমণি কনওয়ার।দিল্লির তালকাটোরা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ২০তম অল ইন্ডিয়া ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছে জনমণি। প্রতিযোগিতায় তিনটি বাউটে নেমে তিনটিতেই জয় পেয়েছে সে। ফাইনালেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স। ১০-২ ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করে অসমের এই কিশোরী।
জনমণির এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন লড়াইয়ের গল্প। অসমের বন্যায় জলের তলায় চলে যায় তাঁদের ‘খাসা বাসা’। শুধু ঘর নয়, যে মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করত জনমণি, সেটিও প্রায় এক মাস ধরে জলের নিচে ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ত্রাণশিবিরে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে।প্রতিযোগিতার আগে ঠিকমতো অনুশীলনের সুযোগও পায়নি জনমণি। কিন্তু বন্যার প্রতিকূলতা তার লক্ষ্যকে নড়াতে পারেনি। যতটা সম্ভব পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যারাটের অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছে সে। সেই জেদ এবং পরিশ্রমের ফলই মিলল দিল্লির মাটিতে। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও ছিল না জনমণির পরিবারের হাতে। সেই সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা তথা ‘ফিজিক্সওয়ালা’-র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আলখ পাণ্ডে।
জনমণির লড়াইয়ের কথা জানতে পেরে তিনি আর্থিক সাহায্য করেন। এমনকি দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও করে দেন। সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে প্রতিযোগিতায় নেমে তিনটি ম্যাচেই জয় পায় জনমণি।
বন্যায় ঘর হারানো, অনুশীলনের জায়গা হারানো এবং আর্থিক সমস্যার মতো একের পর এক বাধা পেরিয়ে জনমণির এই সাফল্য ইতিমধ্যেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। জাতীয় স্তরের মঞ্চে সোনা জয়ের পর তার পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়—ভারতের হয়ে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করা। জনমণির সাফল্যের মধ্যেই অবশ্য অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার বন্যাকবলিত দরং জেলার মঙ্গলদই পরিদর্শনে গিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, বন্যাকে শুধু ‘জাতীয় সমস্যা’ হিসেবে ঘোষণা করলেই হবে না, এর জন্য প্রয়োজন ‘জাতীয় সমাধান’। এক দিকে বন্যার ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত অসম, অন্য দিকে সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই উঠে আসছে জনমণির মতো প্রতিভা। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, স্বপ্নকে আঁকড়ে থাকলে সাফল্যের রাস্তা খুঁজে নেওয়া সম্ভব।






