কলকাতা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা হাজার হাজার চিঠির জট খুলছে! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেওয়ার কড়া নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

তাঁর নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমে থাকা চিঠিগুলি বিভাগ অনুযায়ী বাছাই করে করতে হবে

Truth of Bengal: জেলা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে পাঠানো হাজার হাজার চিঠির এবার উত্তর দেওয়ার উদ্যোগ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যভবনের রিসিভিং সেকশনে পড়ে থাকা সেই চিঠিগুলির জট কাটাতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমে থাকা চিঠিগুলি বিভাগ অনুযায়ী বাছাই করে করতে হবে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়া, হাসপাতালের গাফিলতি, বদলির আবেদন-সহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে বহু মানুষ প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর সেই চিঠির বড় অংশের কোনও উত্তরই দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যভবনের রিসিভিং সেকশনে ‘টু দ্য হেলথ মিনিস্টার’ লেখা প্রায় সাড়ে তিন হাজার চিঠি এখনও জমে রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মী। অভিযোগ, এর মধ্যে বহু চিঠি ২০১৫-১৬ সাল থেকে পড়ে রয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেকে জানিয়েছেন, আগে অভিযোগ পাঠিয়েও কোনও উত্তর পাননি। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়েই পুরনো চিঠির স্তূপের সন্ধান পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “রিসিভিং সেকশনে গিয়ে দেখেছি ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের বহু চিঠি এখনও খামবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেকগুলি খোলাও হয়নি।” স্বাস্থ্যভবনে জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসাথী, ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট-সহ একাধিক বিভাগ রয়েছে। ফলে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী চিঠিগুলি পৃথক বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা বাক্স তৈরি করে সংশ্লিষ্ট চিঠিগুলি সেখানে রাখতে বলা হয়েছে।

শারদ্বত জানিয়েছেন, পুরনো হলেও সব চিঠির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, “২০১৬ সালে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। তা সত্ত্বেও যতটা সম্ভব প্রতিটি চিঠির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।” বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, জমে থাকা প্রতিটি চিঠির অন্তত প্রাপ্তিস্বীকার অবশ্যই পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য দপ্তর এখন পুরনো চিঠিগুলি বাছাই করে প্রত্যেক প্রেরকের কাছে প্রাপ্তিস্বীকার পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।

Related Articles