‘বাছাই করে বাংলাদেশেই ফেরানো হবে!’ সিএএ ও জনগণনার মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্য
শনিবার থেকে রাজ্যে ১৬তম জনগণনার কাজ শুরু হওয়ায় বিচারাধীন আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর হওয়ার পর বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি এবং নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শনিবার থেকে রাজ্যে ১৬তম জনগণনার কাজ শুরু হওয়ায় বিচারাধীন আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহে অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ থেকে বাংলায় আসা সকলকে একই শ্রেণিতে রাখা হবে না। যাঁরা অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর ফেরত পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে দু’ধরনের মানুষ বাংলায় এসেছেন। এক শ্রেণির মানুষ অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের বাংলায় থাকতে দেওয়া হবে না। যাচাই-বাছাই করে চিহ্নিত করার পর ফেরত পাঠানো হবে।”
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বীরভূমের সোনালি বিবির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যে একজন অনুপ্রবেশকারীকেও থাকতে দেওয়া হবে না। অবৈধ ভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকার নিতে পারবে না বলেও জানান তিনি। তবে সিএএ-র আওতায় থাকা হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান এবং জৈন সম্প্রদায়ের মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলা যাবে না বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় নিপীড়ন কিংবা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে আসা এই মানুষদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তাঁর দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্ম বা প্রাণরক্ষার কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাঁদের হয়রানি করতে পারবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, ভারতের নাগরিক নন—এমন কেউ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তাঁর কথায়, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কেবল দেশের বৈধ নাগরিকদের প্রতিই দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, “দেশের নাগরিক না হলে কোনও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল নাগরিক তালিকা তৈরি হলে সরকারের পক্ষে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।” এবারের জনগণনার ফর্মে নাগরিকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত তথ্যভান্ডার তৈরি হলে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা, জাতিগত শংসাপত্র কিংবা অন্যান্য সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বারবার আলাদা করে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। নাগরিকদের তথ্য স্থায়ী ভাবে নথিভুক্ত থাকলে প্রশাসনিক কাজও দ্রুত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে স্ব-সুমারি বা সেল্ফ এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করা যাবে। এরপর ১৬ আগস্ট থেকে এক মাস ধরে জনগণনা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। যাঁরা অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি কর্মীরাই প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করবেন।






