ডার্ক ওয়েবে কুডনকুলম পরমাণু কেন্দ্রের সংবেদনশীল ফাইল ফাঁস, কাঠগড়ায় অনিল আম্বানির সংস্থা
আন্তর্জাতিক তথ্য ফাঁসকারী মঞ্চ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে এক সাইবার হানা চালিয়ে এই পরমাণু কেন্দ্রের প্রায় ১৯,০০০টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইল ফাঁস করে দিয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
Truth of Bengal: ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কুডনকুলমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্য ফাঁসকারী মঞ্চ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে এক সাইবার হানা চালিয়ে এই পরমাণু কেন্দ্রের প্রায় ১৯,০০০টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইল ফাঁস করে দিয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা অনিল আম্বানির সংস্থা ‘রিলায়্যান্স এডিএজি’-র একটি সার্ভার হ্যাক করে এই বিপুল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে হ্যাকার গোষ্ঠীটি। একটি শক্তিশালী র্যানসমওয়্যার ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়, যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা লক বা ‘এনক্রিপ্ট’ করে ফেলে।
ফাঁস হওয়া নথিপত্রের মধ্যে কুডনকুলম পরমাণুকেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের প্ল্যান্ট ব্লুপ্রিন্ট, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের নিখুঁত নকশা, প্রযুক্তিগত সরবরাহকারীদের বিবরণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানাবিধ গোপন তথ্য রয়েছে। এই চুরির বিষয়ে অনিল আম্বানির রিলায়্যান্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর পক্ষ থেকে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় ডেটা সেন্টারের অংশ হিসেবে তৃতীয় পক্ষকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘ইয়োট্টা’ (Yotta) পরিচালিত একটি সার্ভারে তাদের ডেটার ‘আংশিক লঙ্ঘন’ বা ডেটা ব্রিচ ঘটেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমদ্ধ্যে ভারত সরকারকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে, তবে ঠিক কী কী গোপন নথি বেহাত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কুডনকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ এবং ৪ নম্বর ইউনিটের নকশা ও নির্মাণের বড় বরাত পেয়েছিল রিলায়্যান্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।
এই সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা কুডনকুলম বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর পদস্থ আধিকারিক নিকোলাস রথ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটে রিলায়্যান্স সংক্রান্ত মোট ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ফাইল রয়েছে, যার মধ্যে ১৯ হাজারটি চরম সংবেদনশীল। নিকোলাসের মতে, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ভারতে সাইবার হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, অথচ বহু সংস্থাই এই ধরণের জটিল সাইবার সঙ্কট ও জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বড় বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য এখনও পরিকাঠামোগতভাবে প্রস্তুত নয়।






